Hidden Stories (বাংলা)

নেপালের বিপর্যয়ে তোলপাড় বাংলা! বিপদসীমার ৩ ফুট ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা, ফরাক্কায় জারি হাই অ্যালার্ট ও মাইকিং

মুর্শিদাবাদ: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের মারাত্মক প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল বাংলায়। ফরাক্কা ব্যারেজে হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে গঙ্গার জলস্তর, যা ইতিমধ্যেই বিপদসীমার প্রায় তিন ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জলস্তর এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্লাবন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে ফরাক্কা, সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান-সহ সংলগ্ন নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে গোটা এলাকায় ব্যাপক সতর্কতামূলক নজরদারি শুরু করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন।ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে আপ স্ট্রিমে জলস্তর পৌঁছেছে ৭৬.৬০ ফুটে এবং ডাউন স্ট্রিমে ৭৫.২০ ফুটে, যেখানে আগের দিন এই মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭৬.৩৫ ফুট এবং ৭৪.৮০ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় ডাউন স্ট্রিমে এক ধাক্কায় প্রায় ০.৪০ ফুট জল বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর গর্জন আরও তীব্র হয়েছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী নিজে ময়দানে নেমে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্দেশ দিচ্ছেন। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং যে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।অন্যদিকে নেপালের বিপর্যয়ে আটকে পড়েছেন বাংলার পর্যটকরাও; নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরনোর কথা থাকা ৩২ জন পর্যটকের এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি, যা তাঁদের পরিবারের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নবান্নে জরুরি কন্ট্রোল রুম খুলে হেল্পলাইন নম্বর—(০৩৩) ২৪৭৯-৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১ চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও বিপর্যস্ত পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য পৌঁছে দিতে রাজ্য প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:12035]

 নেপালের বিপর্যয়ে তোলপাড় বাংলা! বিপদসীমার ৩ ফুট ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা, ফরাক্কায় জারি হাই অ্যালার্ট ও মাইকিং