ক্যাফের পাশে ওত পেতে ছিল যম! গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রেমিকাকে খুন
অশোকনগর: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে জলাশয় থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাড়হিম করা তথ্য সামনে আনল পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চরম টানাপড়েন ও জটিলতার জেরে প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মৃত মহিলার নাম রিঙ্কু দাস (৩৮)। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কুতুবুদ্দিন দফাদার নামে তাঁর প্রেমিককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:10680]পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার অশোকনগরের গুমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তাজপুর এলাকায় একটি ক্যাফের পাশে হাঁটুজল থাকা জলাশয় থেকে রিঙ্কু দাসের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত কুতুবুদ্দিনের সঙ্গে গত ৭-৮ বছর ধরে বিবাহবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল রিঙ্কুর। 'অভয়া কাণ্ডে দাঁড়ি টুপি, লুঙ্গি পরা কাউকে দেখেছেন?'— প্রশ্ন দিলীপ ঘোষেরসম্প্রতি তাজপুর এলাকায় তাঁদের বেশ কয়েকবার একসঙ্গে দেখাও গিয়েছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ৩ জুলাই রাতে অশোকনগরের একটি নির্জন রাস্তায় দেখা করেছিলেন তাঁরা। সেখানেই দুজনের মধ্যে চরম বচসা বাধে। তর্কাতর্কি চলাকালীন রাগের মাথায় রিঙ্কুর গলায় থাকা ওড়না কেড়ে নিয়ে তা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন কুতুবুদ্দিন। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ক্যাফের পাশের জলাশয়ে দেহটি ফেলে চম্পট দেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10675]মৃতা রিঙ্কু দাস কল্যাণগড় বাজার এলাকার বাসিন্দা হলেও স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না-হওয়ায় সম্প্রতি অশোকনগরে একটি ভাড়াবাড়িতে একা থাকতেন। এই সুযোগেই কুতুবুদ্দিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়ে। তবে ঠিক কী কারণে এই দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এমন খুনের পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আজ, মঙ্গলবার ধৃত কুতুবুদ্দিন দফাদারকে বারাসত আদালতে হাজির করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। খুনের নেপথ্যে থাকা আসল উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।