অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় দুমড়ে গেল টোটো, কেটে রাস্তায় ছিটকে পড়ল চালকের হাত! দুর্গাপুরে হাড়হিম করা দুর্ঘটনা
দুর্গাপুর: রোগী বাঁচানোর তাগিদ নাকি বেপরোয়া গতি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় একটি দ্রুত গতির অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় ঘটল এক হাড়হিম করা কাণ্ড। মুখোমুখি সংঘর্ষের জেরে চোখের পলকে দুমড়ে-মুচড়ে গেল যাত্রীবাহী টোটোটি। [TECHTARANGA-POST:10646]আর সেই ধাক্কার তীব্রতায় টোটোচালকের হাত কনুই থেকে কেটে ছিটকে পড়ল মাঝরাস্তায়! রবিবার বিকেলে এই ভয়ংকর ও নৃশংস দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল দুর্গাপুরের মোহনবাগান অ্যাভিনিউ এলাকা। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।'আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়'— রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সুকান্তপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত টোটোচালকের নাম আজাদ হোসেন। রবিবার বিকেলে আইকিউ সিটির ভেতর থেকে একজন যাত্রী নিয়ে মেইন রোডের দিকে আসছিল তাঁর টোটোটি। ঠিক সেই সময়ই মোহনবাগান অ্যাভিনিউর দিক থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছিল ঘাতক অ্যাম্বুল্যান্সটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোড় ঘোরার সময় আচমকাই অ্যাম্বুল্যান্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি টোটোটিতে গিয়ে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে টোটোটি কার্যত লোহার স্তূপে পরিণত হয়। ছিটকে রাস্তায় আছড়ে পড়েন চালক আজাদ। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে দেখেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাজপথ এবং চালকের একটি হাত কনুই থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে পড়ে রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10634]এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন উপস্থিত পথচারীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। রণক্ষেত্র পরিস্থিতি থেকে পুলিশই তড়িঘড়ি আশঙ্কাজনক অবস্থায় টোটোচালক এবং তাঁর শরীরের কাটা অংশটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে শেষরক্ষা হয়নি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, টোটোয় থাকা ওই যাত্রীও এই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।রণক্ষেত্র বারুইপুর! ৩ থানায় জারি ১৬৩ ধারাঘাতক অ্যাম্বুল্যান্সটিকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ। চালকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুল্যান্সটির গতি ঠিক কত ছিল, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল কি না কিংবা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি দেখা দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে সাতদুপুরে এমন মর্মান্তিক ও নৃশংস দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা মোহনবাগান অ্যাভিনিউ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।