শান্তি আলোচনার পরেই রক্তপাত! আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের ‘মর্টার হানা’, নিহত অন্তত ৭
কাবুল: চিন ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রণক্ষেত্র আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত। সোমবার দুপুরে আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভয়াবহ মর্টার ও মিসাইল হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৫ জন। নিহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও সাধারণ নাগরিকরা রয়েছেন বলে দাবি করেছে তালিবান প্রশাসন।[TECHTARANGA-POST:8559]আফগান আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদে অবস্থিত ‘সৈয়দ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে অতর্কিতে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। তালিবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এই ঘটনাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘উস্কানিমূলক কাজ’ বলে বর্ণনা করেছেন। আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন ছাত্র ও অধ্যাপক রয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:8559]অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের অভিযান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়; কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অসামরিক এলাকায় হামলা চালানো হয়নি। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রকের দাবি, এটি আফগান মিডিয়ার অপপ্রচার মাত্র।[TECHTARANGA-POST:8558]উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসের শুরুতেই চিনের উরুমকিতে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উভয় পক্ষই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু, সোমবারের এই হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের সীমান্তে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার জেরে ইতিমধ্যে প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে ফের খাদের কিনারায় পৌঁছে দিল।