সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা ও একাধিক ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফালা, সপ্তাহজুড়ে ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ!
কলকাতা: আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসকে সত্যি প্রমাণ করে বুধবার দিনভর টানা বৃষ্টিতে ভিজেছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। তবে এখনই মিলছে না স্বস্তি। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার তো বটেই, সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতেও রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় চলবে দুর্যোগ। মূলত সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা এবং জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে তৈরি হওয়া অনুকূল আবহাওয়ার কারণেই বঙ্গজুড়ে এই টানা বৃষ্টির জের। মৌসুমী অক্ষরেখাটি বর্তমানে বিকানির, পাটনা ও মালদহের ওপর দিয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করায় উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই ঝড়-বৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে আজ দিনভর মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ স্পর্শ করায় বৃষ্টির পাশাপাশি প্যাচপ্যাচে অস্বস্তি বজায় থাকবে। বৃহস্পতিবার সব জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দুই বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। তবে শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমবে এবং রবিবার নাগাদ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হতে পারে।অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার— এই পাঁচ পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাগাতার বর্ষণে পাহাড়ে ধস নামার চরম ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকার মতো নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মালদহ এবং দুই দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। তবে শুক্রবারের পর থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।হিডেন স্টোরিজ নিউজ