ভোটের মুখে নবান্নে প্রশাসনিক রদবদলের মহাপর্ব: এবার একযোগে ৩০ জন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকের বদলি
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে। রবিবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শীর্ষস্তরে বদলির পর সোমবার সকালে রাজ্য প্রশাসনের আরও ৩০ জন ডব্লিউবিসিএস (এগ্জ়িকিউটিভ) আধিকারিকের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এল। নবান্নের প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের ডব্লিউবিসিএস সেল থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মূলত জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনতেই এই বড় সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7351]নির্বাচনকালীন কাজের সুবিধার্থে একাধিক জেলায় নতুন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) নিয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বদলিগুলি হলো:উত্তর দিনাজপুর: অনন্তচন্দ্র সরকার (আগে পর্যটন দফতরে ছিলেন)।মালদহ: পুষ্পক রায় (মালদহ ডিভিশনের সহকারী কমিশনার পদ থেকে)।মুর্শিদাবাদ: বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্য (আইটি ও ইলেকট্রনিক্স দফতর থেকে)।নদিয়া: সুদীপ্ত দাস (পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সচিব পদ থেকে)।[TECHTARANGA-POST:7343]উত্তর ২৪ পরগনা: শুভলক্ষ্মী বসু এবং ব্রিজিত সুচিতা কুজুর (যথাক্রমে আদিবাসী উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য দফতর থেকে)।নবান্নে ফিরলেন অভিজ্ঞ আমলারা:তালিকায় দেখা যাচ্ছে, দীপাঞ্জন দে, কোয়েলি দাস, পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় এবং শৈবাল নন্দীর মতো অভিজ্ঞ আধিকারিকদের রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি বা যুগ্ম সচিব পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভোটের সময় নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলানোই এখন মূল লক্ষ্য।[TECHTARANGA-POST:7342]নবান্ন সূত্রে খবর, যদিও এই বিজ্ঞপ্তি ১৬ মার্চ প্রকাশ্যে এসেছে, তবে এটি আসলে গত ১৩ মার্চ তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এই পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া চলছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক কাজ যাতে আরও দ্রুত এবং ত্রুটিহীনভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্যই জেলাগুলিতে বাড়তি নজর দিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটের মুখে এই বিপুল রদবদলকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলেও, এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।