‘বিতর্কিত’ তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তন, দুই দশক পর বদলাল সমীকরণ?
২০০৭ সালে শহর ছেড়েছিলেন। প্রায় দু’দশকের অপেক্ষা। অবশেষে কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে শঙ্খ ও উলুধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। শহরে ফিরেই আবেগপ্রবণ হয়ে পরেন লেখিকা। হাসিমুখে বলেন,“খুবই ভালো লাগছে।”কলকাতায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন তসলিমা। লিখেছিলেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ দীর্ঘ ১৯ বছর পর শহরে ফিরে তাঁর মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। শনিবার রবীন্দ্রসদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমা নাসরিনের। মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেক্যুলার মিশন ও এইচআরবিএফএফ। সূত্রের খবর, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তবে তসলিমার এই ফিরে আসা খুব সহজ ছিল না। ২০০৭ সালে তাঁর লেখা ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে ঘিরে কলকাতায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তসলিমার বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি সরকারের তরফে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে বলা হয়। যদিও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তাঁকে ফেরানো নিয়ে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় কলকাতা থেকে দূরে ছিলেন তসলিমা। যদিও বারবার তাঁর লেখায় উঠে এসেছে কলকাতার প্রতি টান। এই শহরকে তিনি বরাবরই নিজের সাহিত্যিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেছেন। প্রায় ১৯ বছর পর ফের সেই কলকাতাতেই ফিরলেন তসলিমা নাসরিন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক মহলে আলোচনা।