রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথেও বিপুল অনুদান লুট! প্রাথমিক রিপোর্ট মিলতেই কড়া অ্যাকশন
দেরাদুন: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে চলা শোরগোলের মাঝেই এবার হিন্দুদের অন্যতম প্রধান পবিত্র তীর্থক্ষেত্র বদ্রীনাথ ধামেও মাথা চাড়া দিল কোটি কোটি টাকার প্রণামী লুটের ভয়ংকর অভিযোগ। বদ্রীনাথ মন্দিরের এই অনুদান চুরির ঘটনায় অভিযোগের তির সরাসরি খোদ মন্দির কমিটির শীর্ষ কর্তার ঘরের দিকেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের পরেই বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (BKTC) এক শীর্ষ কর্মীকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হলো। বিকেটিসি (BKTC) চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আর্থিক অনিয়মের অকাট্য ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এর পরেই প্রমোদ নৌটিয়াল নামের ওই প্রভাবশালী কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, যিনি মন্দির কমিটির অধীনে খোদ ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।[TECHTARANGA-POST:10733]বদ্রীনাথে অনুদান চুরির এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি এবং উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। বিকেটিসি-র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (CEO) সোহন সিংহ রাঙ্গার জানান, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং মন্দির চত্বরের গত কয়েক মাসের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান সংগ্রহ করবেন কমিটির আধিকারিকেরা। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামীর নির্দেশে উত্তরাখণ্ড সরকারও একটি পৃথক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার মাথায় বসানো হয়েছে গাড়ওয়াল ডিভিশনের কমিশনারকে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10725]প্রকৃতপক্ষে, চলতি তীর্থযাত্রার মরশুমে এখনও পর্যন্ত কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ মন্দির থেকে প্রণামী বাবদ প্রায় ৭০ কোটি টাকার বিপুল অনুদান এসেছে। পাশাপাশি মন্দিরের নিজস্ব গেস্ট হাউসগুলি থেকেও এসেছে বড় অঙ্কের আয়। প্রতি বছর এই পবিত্র ধাম থেকে গড়ে ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা আয় হয়। এই বিপুল অর্থের পাহাড়ের মাঝেই গত শুক্রবার 'ভৈরব সেনা' নামে একটি হিন্দু সংগঠনের তরফে মন্দির কমিটিকে একটি বিস্ফোরক চিঠি দেওয়া হয়। যেখানে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয় যে, মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামীর বাক্স থেকে টাকা চুরির চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সংগঠনের দাবি, এই চুরির কথা অনেক আগেই চেয়ারম্যানের নজরে আনা হলেও তিনি বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথেও এমন দেবতারে উৎসর্গ করা ধন লুটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র ক্ষোভ ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে পুণ্যার্থীদের মহলে।