মেয়ের নামে পেট্রোল পাম্প, পার্কিংয়ে সরকারি জমি! টুলুর কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য সিজ
মহম্মদবাজার: অবৈধ উপায়ে মেগা পাথর খাদান চালানো এবং বিপুল বেনামী সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগে এবার কোণঠাসা বিতর্কিত কারবারি নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল! রাজ্যে তাঁর অগাধ সম্পত্তির বহর দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড় আমজনতার। একের পর এক শাগরেদ ও সহযোগী গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্ত টুলুর কিন্তু হদিশ মিলছিল না। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, আইনের হাত থেকে বাঁচতে বিদেশে চম্পট দিয়েছেন টুলু। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, দুবাইয়ে নিজের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে শালমা ও জামাইয়ের আশ্রয়েই আপাতত গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন এই ফেরার পাথর মাফিয়া।টুলুর খোঁজে তল্লাশি চালানোর মাঝেই শনিবার রাতে তাঁর মূল আস্তানায় বড়সড় হানাদারি চালায় পুলিশ। ধৃত সহযোগী মিনার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে মহম্মদবাজার থানার সোঁতশাল এলাকায় টুলুর পাথর কারবারের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছান তদন্তকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে পুরো অফিসে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যাওয়ার আগে মূল দপ্তরটি পুরোপুরি সিল করে দেয় পুলিশ বাহিনী। এর পাশাপাশি টুলুর মেয়ের নামে থাকা একটি বিলাসবহুল পেট্রোল পাম্প ইতিমধ্যেই সিজ করা হয়েছে এবং ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এই বিপুল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের আসল রহস্য ভেদ করতে পুলিশ দুই হিসাবরক্ষক পুলক দে ও রেখিউল ইসলামকে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।তদন্তে নেমে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি ও প্রশাসন সূত্রে উঠে আসছে আরও একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। জানা গিয়েছে, এত বড় পাথর খাদানের ব্যবসা ও লরি পার্কিং জোন চালানোর জন্য টুলুর কাছে আদৌ কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ এত দিন দাপটের সঙ্গে তিনি একাই সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যবহৃত বিশাল পার্কিং এরিয়ার মধ্যে একটা বড় অংশ জুড়ে সরকারি খাস জমি দখল করে রাখার মারাত্মক অভিযোগও সামনে এসেছে। পুরো জমির মাপজোক শুরু হলে বেআইনি দখলের পরিমাণ স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে, বিদেশে বসে কলকাঠি নাড়লেও দেশে টুলুর অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করেছে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা।[TECHTARANGA-POST:11403]হিডেন স্টোরিজ নিউজ