Hidden Stories (বাংলা)

‘দেশে সব বিকিয়ে গিয়েছে!’ অনশন মঞ্চ থেকে মোদী ও বিরোধীদের তোপ সোনমের

নয়াদিল্লি : সর্বভারতীয় স্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে লাগাতার কারচুপির প্রতিবাদে দেশের রাজধানী এখন উত্তাল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ১৭ দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশপ্রেমী সোনম ওয়াংচুক। অনশন মঞ্চ থেকেই এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে অত্যন্ত কড়া ও বিস্ফোরক বার্তা দিলেন তিনি। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আক্ষেপের সুরে সোনম বলেন, আজ দেশে সততার কোনও দাম নেই, সবকিছুই অসততার ওপর ভিত্তি করে চলছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত আজ দেশে সবকিছুই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। একই সঙ্গে একগুঁয়ে মানসিকতা ছেড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জনগণের আর্তনাদ শোনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।টানা ১৭ দিন অনশনে বসার পরও মোদী সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়েছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে সোনম জানান যে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তবে সরকারের কানে দাবি পৌঁছে দিতে তাঁদের এই প্রতিবাদ আরও জোরাল হবে। ক্ষুব্ধ সোনম স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না করা হয়, তবে শুধু সরকার নয়, দেশের সেইসব আমজনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সমানভাবে দায়ী থাকবে, যারা এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চরম গা-ছাড়া মানসিকতা দেখাচ্ছে। মানুষ যদি ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবাদে শামিল না হন, তবে সরকার নতি স্বীকার করবে না। তবে শিক্ষাবিদের বিশ্বাস, সরকার এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে না, তারা অবশ্যই এর একটা স্থায়ী সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় সোনম ওয়াংচুকের যুক্তি, একজন ব্যক্তির পদত্যাগের মাধ্যমে হয়তো গোটা পরীক্ষা পদ্ধতির রাতারাতি ব্যাপক সংস্কার সম্ভব নয়, কিন্তু এর ফলে অন্তত প্রশাসনে জবাবদিহিতার পথ প্রশস্ত হবে। সরকারের যদি জনগণের কাছে জবাব না দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়, তাহলে এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের চক্র চলতেই থাকবে, যা কেবল শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নয়, গোটা দেশের জন্য এক মস্ত বড় কলঙ্ক। এভাবে প্রশ্ন ফাঁস হতে থাকলে আগামী দিনে ভুয়ো ডাক্তাররা আপনার সন্তানের চিকিৎসা করবে, আর ভুয়ো ইঞ্জিনিয়ারদের বানানো বাড়ি ভেঙে সাধারণ মানুষ মারা যাবে।লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পাশে দাঁড়িয়ে গত ১৭ দিন ধরে অনশন চালালেও সোনম ওয়াংচুক কার্যত এখন একাকী লড়াই লড়ছেন। বিরোধী দলগুলি মৌখিকভাবে তাঁর আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালেও রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো প্রথম সারির কোনও বড় নেতাকে এখনও যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের কাউকেই অনশনে বসতে দেখা যায়নি, বরং উল্টে তাঁদের অনশন মঞ্চে বসে খাবার খেতে দেখা গিয়েছে। এই চরম একাকীত্বের আবহে এবার স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোনম ওয়াংচুক মনে করিয়ে দিয়েছেন, গণতন্ত্র চলে সহমর্মিতা ও সহানুভূতির ওপর, কোনও একগুঁয়েমির ওপর নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত নিজের জেদ ত্যাগ করে দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবা।[TECHTARANGA-POST:10948]হিডেন স্টোরিজ নিউজ

‘দেশে সব বিকিয়ে গিয়েছে!’ অনশন মঞ্চ থেকে মোদী ও বিরোধীদের তোপ সোনমের

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার