কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের সঙ্গে বৈঠকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সাফ বার্তা, এবার কোনও এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটলে সরাসরি স্তানীয় থানার ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে অভিযুক্ত অফিসারদের বরখাস্ত করার পথেও হাঁটতে পারে কমিশন।[TECHTARANGA-POST:7176]কমিশন সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ফুল বেঞ্চ। ওই সময় কোন কোন পুলিশ অফিসারের এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল এবং তার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার তৎকালীন সুপারভাইজিং অফিসার কারা ছিলেন, তাঁদের সকলের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সেই সব অফিসারদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনও বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে কিনা বা শাস্তিমূলক কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তাও জানাতে বলা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7173]বৈঠকে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০২১-এর অশান্তির সমস্ত খতিয়ান তাদের কাছে আছে। এবারের ভোটে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব ও ডিজি-কে হুঁশিয়ারি দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, "ওসিদের বিরুদ্ধে ৩১১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে আমরা সরাসরি তাঁদের সরিয়ে দেব। এরপরও যদি হিংসা ঘটে, তবে তার দায় আপনাদের সবাইকে নিতে হবে।"[TECHTARANGA-POST:7167]রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, কোনও প্রকার উস্কানি বা অশান্তি বরদাস্ত করতে নারাজ কমিশন। কমিশনের এই কড়া অবস্থানের লক্ষ্য একটাই, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যেসব এলাকাগুলি স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত, সেখানে পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা এবার আতসকাচের তলায় থাকবে।[TECHTARANGA-POST:7165]আগামী সপ্তাহেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই কমিশনের এই কঠোর মনোভাব রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।