‘স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটেছিল’, দলবদলের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ হলেও রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা খুব বেশি দিনের নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমবার ভোটে নেমেই জয় পান রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক ঠিকানা বদলে যায়।[TECHTARANGA-POST:10982]তৃণমূল ছেড়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন রচনা। সেই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়েই এবার মুখ খুললেন তিনি। বুধবার হুগলিতে এসে অভিনেত্রী-সাংসদ বলেন, রাজনীতিতে আসার পিছনে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা তৈরি হওয়াতেই নতুন পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। চুঁচুড়ার রবীন্দ্র ভবনে জেলা স্তরের দিশা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রচনা। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি নরেন্দ্র মোদীজি, অমিত শাহজি এবং শুভেন্দুদার সমর্থক। কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে রাজনীতিতে আসিনি। আমি চাই হুগলির উন্নয়ন হোক, মানুষের জন্য আরও কাজ করা যাক।” রচনার কথায়, রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের কেন্দ্রের উন্নয়ন। আর সেই কাজ করতে গেলে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই স্তরেই সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে হুগলির উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।[TECHTARANGA-POST:10981]এদিন চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগকে পাশে নিয়েই রচনা বলেন, এবার তিনি এমন একজন বিধায়ক পেয়েছেন, যাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মধ্যেই তাঁর প্রাক্তন দলের সঙ্গে দূরত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট। উল্লেখ্য, সাংসদ হওয়ার পর থেকেই হুগলির তৃণমূল সংগঠনের একাংশের সঙ্গে রচনার মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল। বিশেষ করে চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন নিয়ে দলীয় মহলে কম আলোচনা হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে একসময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।