কলকাতা: ভোটে হারের পর একের পর এক আইনি বিপাকে জেরবার ঘাসফুল শিবির। এবার খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হলো গুরুতর এফআইআর। ধর্মতলার এক হাই-প্রোফাইল সভা থেকে জনসমক্ষে ‘উস্কানিমূলক’, ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো মারাত্মক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। নবগঠিত ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা বিএনএস-এর একাধিক জামিন অযোগ্য ও চরম ধারা প্রয়োগ করে এই মামলা রুজু করায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9905]পুলিশের এফআইআর কপি থেকে জানা গিয়েছে, তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি গত ৭ জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের গত ৯ মার্চ। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূলের তরফ থেকে একটি বিশাল ‘ধরনা মঞ্চ’ তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগকারীর দাবি, সেই সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছিলেন যা সরাসরি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বুড়ো আঙুল দেখায় এবং দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসা ছড়াতে প্ররোচিত করে।[TECHTARANGA-POST:9904]অভিযোগকারীর বয়ান খতিয়ে দেখে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩’-এর অধীনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট ৩টি অত্যন্ত গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৬(১) ধারা, যা মূলত বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা এবং সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া রয়েছে ৩৫১(২) ধারা অর্থাৎ অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উস্কানি এবং ৩৫২ ধারা, যার অর্থ শান্তিভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে অপমান করা। এই ধারাগুলি যুক্ত হওয়ায় আইনি দিক থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:9903]ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে হেয়ার স্ট্রিট থানা কোমর বেঁধে তদন্তে নেমে পড়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে থানার অত্যন্ত দক্ষ সাব-ইন্সপেক্টর হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে এই এফআইআর শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। তবে এই এফআইআর ও তদন্ত নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার