‘দিদি’র সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতেই কি বড় লটারি ফিরহাদের? এবার পিএসি-র চেয়ারম্যান পদে বসতে চলেছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র!
কলকাতা: রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এখন এক চরম নাটকীয় মোড়। এতদিন যাঁরা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের ঝোড়ো হাওয়ায় তাঁরাই এখন 'দিদি'র থেকে শতযোজন দূরে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া শাসক শিবিরের পরিষদীয় দলের রাশও এখন সুপ্রিমোর হাতছাড়া। এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি (PAC)-র চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আর এই আবহেই সবথেকে বড় চমক হিসেবে উঠে আসছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নাম। মুখে কিছু না বললেও দীর্ঘদিন ধরেই আচরণে ফিরহাদ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আর পুরনো শিবিরের অনুগত নন। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার পর সেই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। আর এবার জল্পনা ছড়িয়েছে, মমতার সঙ্গ ছাড়ার 'পুরস্কার' হিসেবেই হয়তো ফিরহাদ হাকিমকে পিএসি-র চেয়ারম্যান পদের মতো বড় গুরুদায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের সময় যে ছবি দেখা গিয়েছে, তাতে এই জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে। ঘটনাচক্রে দেখা যায়, ফিরহাদ হাকিমের বসার আসনটি নির্দিষ্ট হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাভেদ খানদের সঙ্গে একই বেঞ্চে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আসন বিন্যাসই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ফিরহাদ এখন খাতায়-কলমে 'ঋত-পন্থী' তৃণমূলে শামিল। এদিকে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন ইতিমধ্যেই এনসিপিআই নামক একটি অচেনা দলের হাত ধরে এনডিএ-কে সমর্থন জানাতে ব্যস্ত। এই অবস্থায় তলে তলে ফিরহাদের বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার গুঞ্জনও কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। যদিও তিনি এখনও খাতায়-কলমে তৃণমূলেরই বিধায়ক। সংসদীয় রাজনীতিতে রাজ্য সরকারের যাবতীয় খরচ-খরচার হিসাব পরীক্ষা করার এই শক্তিশালী কমিটির মাথায় বসার জন্য ফিরহাদের নাম যেভাবে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাতে পরিষদীয় রাজনীতিতে এক নতুন চালের গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।সাধারণত বিধানসভার রীতি মেনে এই পিএসি-র চেয়ারম্যান পদটি বিরোধী শিবিরের কোনও বিধায়ককে দেওয়াই দস্তুর। তবে বিগত কয়েক বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এক বিশেষ কৌশলে এই পদে এমন ব্যক্তিদের বসিয়েছে, যাঁরা খাতায়-কলমে বিরোধী দলের হলেও বাস্তবে শাসক দলের 'পছন্দের' লোক। অতীতে প্রয়াত মুকুল রায় কিংবা আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের ক্ষেত্রেও একই কৌশল দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি বারবার সরব হলেও তৎকালীন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় রীতির দোহাই দিয়ে তা খারিজ করে দেন। উদ্দেশ্য একটাই—এমন কাউকে বেছে নেওয়া যিনি বিরোধী দলের গলার কাঁটা হয়ে থাকবেন। এবার ফিরহাদের ক্ষেত্রেও কি সেই একই চাল খাটিয়ে তাঁকে পিএসি-র চেয়ারম্যান করা হচ্ছে, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক সমঝোতা, সেটাই এখন দেখার।[TECHTARANGA-POST:10083]হিডেন স্টোরিজ নিউজ