Mothabari Incident: বিচারকদের ওপর হামলায় এনআইএ-র জোড়া ঘা, মোথাবাড়ি কাণ্ডে বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনকে তলব
মালদহ: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিডিও অফিসের ভিতর ঢুকে বিচারকদের আটকে রাখা ও প্রাণঘাতী হামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার সরাসরি শাসকদলের বিধায়ককে সমন পাঠাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মালদহের সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কলকাতায় এনআইএ কার্যালয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চলা এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে বিধায়কের তলব ঘিরে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মালদহ তথা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মালদহের কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লক অফিসে চরম অশান্তির সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে—এই দাবিতে স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করে। ব্লক অফিসে ঢুকে এসআইআর শুনানির কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসার তথা বিডিও-কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা চরম ধস্তাধস্তির পর মহিলা বিচারক-সহ বিচারক প্রতিনিধি দলকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে বর্বর আক্রমণ চালানো হয়। পরবর্তীতে এই হিংসাত্মক ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী মেহবুব আলমের নাম জড়ায়। তাকে অগাস্ট মাসে ডেকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এনআইএ।মোথাবাড়ির এই পুরো তাণ্ডবের ঘটনায় মোট ১২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে ইতিমধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এনআইএ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। প্রথম মামলায় ৫৪ পাতার এবং দ্বিতীয় মামলায় ১১ পাতার চার্জশিটে মোট ২৩ জন অভিযুক্তের নাম রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক জামিনঅযোগ্য ও মারাত্মক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা দান, হিংসা ছড়ানো, মহিলা বিচারকদের প্রতি অভব্যতা ও সরকারি কর্মীকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো গুরুতর ধারা।তদন্তকারীদের দাবি, এই পুরো বিক্ষোভ ও হামলার পেছনে কার মাথা কাজ করছিল এবং ঘটনাটিকে সংগঠিত করতে কোন বড় রাজনৈতিক মদত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করতেই সাবিনা ইয়াসমিনকে তলব করা হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক মুখে এনআইএ-র এই সাঁড়াশি পদক্ষেপে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিধায়ক বা তাঁর প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এই তলব নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।[TECHTARANGA-POST:12864]