তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে ‘তাজা নেতা’, ভাঙড়-ক্যানিংয়ে বড়সড় ওলটপালটের হুঁশিয়ারি আরাবুলের
নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙড়: লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভাঙড়ের রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা। দীর্ঘদিনের মান-অভিমান আর দলের অন্দরে ‘উপেক্ষা’র অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলেন দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার ফুরফুরা শরিফে গিয়ে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি ও নওশাদ সিদ্দিকির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টে (ISF) যোগদান করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7398] হাতে তুলে নেন দলীয় পতাকা। দল ছাড়ার পরেই পুরনো দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরাবুল স্পষ্ট জানান যে, যে দল তিনি দীর্ঘ দিন ধরে করে এসেছেন, সেখানে তাঁকে যোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7427]দক্ষিণ গাজীপুরে নিজের বাড়ি থেকে ফুরফুরা শরিফের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরাবুল সরাসরি তোপ দাগেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, শওকত মানুষকে ভুল পথে চালিত করছেন এবং তাঁর প্রভাবেই দলের একাংশ তাঁকে কোণঠাসা করে রেখেছিল।[TECHTARANGA-POST:7419] ভাঙড়ে অশান্তি ও বোমা তৈরির প্রসঙ্গেও শওকতকে বিঁধে আরাবুল প্রশ্ন তোলেন, আর কত মানুষের রক্ত নিলে শওকতের শান্তি হবে? তাঁর দাবি, এই দলবদল কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তৃণমূল এই ঘটনায় যথেষ্ট নড়েচড়ে বসেছে এবং তাঁর অনুগামীরা এখন থেকে আইএসএফের হয়েই ময়দানে নামবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।[TECHTARANGA-POST:7423]তৃণমূলে ফেরার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আরাবুল ইসলাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি একবার যে পথ বেছে নিয়েছেন সেখান থেকে আর পিছপা হবেন না। তাঁর কথায়, ‘আরাবুল যে থুতু ফেলে আর গেলে না’। এখন থেকে আইএসএফ নেতৃত্ব যে ভাবে নির্দেশ দেবেন, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন এবং দল চাইলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও তিনি প্রস্তুত। ভাঙড়ের এই ‘তাজা নেতা’র দলবদল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।