হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় পদক্ষেপ ট্রাম্পের! উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ৪০ মিনিটের এই ফোনালাপে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে এই আলাপচারিতার কথা জানিয়ে ট্রাম্পকে নিজের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। তাঁদের আলোচনায় সবথেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা। মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এই সমুদ্রপথকে উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখা কতটা জরুরি।[TECHTARANGA-POST:8011]ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যদিও ভারতের কয়েকটি তেলের জাহাজকে ইরান ছাড় দিয়েছিল, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কড়া অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, ইরান ও তার উপকূলবর্তী বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী সমস্ত জাহাজ আটকানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরান অভিমুখে যাওয়া জাহাজ বন্ধু দেশের হোক বা শত্রু দেশের, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তবে অন্য দেশ থেকে আসা জাহাজ যা শুধুমাত্র এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের পথ আটকাবে না ওয়াশিংটন।[TECHTARANGA-POST:7997]আমেরিকার এই ‘চোখ রাঙানি’ এবং কঠোর অবরোধের সিদ্ধান্তে যখন আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই মোদী ও ট্রাম্পের এই দীর্ঘ কথোপকথন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। দুই নেতাই পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। ভারতের মতো বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রাম্পের এই আলোচনা বিশ্ব তেলের বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তায় নতুন কোনো মোড় আনে কি না, এখন সেটাই দেখার।