কবর খুঁড়ে লাশ তুলে কঙ্কাল বিক্রি! ঢাকায় ভয়ংকর চক্রের সন্ধান, জড়িত ২ মেডিকেল পড়ুয়া
ঢাকা: রাজধানীর অন্ধকার এক ব্যবসার ভয়ংকর চিত্র সামনে আনলো পুলিশ। কবর থেকে লাশ তুলে মানব কঙ্কাল বানিয়ে বিক্রি—এমনই এক শিউরে ওঠা অপরাধে জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড়।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান।[TECHTARANGA-POST:7155]পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন হলেন— মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬). কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫)। তারা রাজধানীর সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ-এর শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তারা কবর থেকে লাশ তুলে কঙ্কাল তৈরি করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করছিলেন।সোমবার রাতে তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ এলাকা ও উত্তরা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আরো দুজন—মো. আবুল কালাম (৩৯) ও আসাদুল মুন্সী (৩২)—কে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টরে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের একটি হোস্টেল কক্ষে রাখা ছিল ৪৪টি মাথার খুলি এবং বিভিন্ন মানবদেহের হাড়। বস্তা ও ব্যাগভর্তি এসব কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের একটি অনলাইন গ্রুপ ছিল—“Bones Selling” নামে। এই গ্রুপে প্রায় ২০ হাজার সদস্য এবং প্রায় ৭০০ জন সক্রিয়ভাবে কাজ করত।পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করছিল।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী—গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুরের কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হতো। সাধারণত লাশ দাফনের এক বছর পর কবর খুঁড়ে হাড় তুলে আনা হতো। সিসি ক্যামেরা বা নিরাপত্তা কম এমন কবরস্থান টার্গেট করা হতো। পরে কেমিক্যাল দিয়ে পরিষ্কার করে কঙ্কাল প্রস্তুত করা হতো। এরপর সেগুলো ডেন্টাল ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হতো।পুলিশ জানায়, মাঠপর্যায়ে কবর থেকে তুলে আনা কঙ্কাল ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কেনা হতো। পরে সেগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবুল কালামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কঙ্কাল উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২১টি মামলা রয়েছে।ডিসি ইবনে মিজান জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।[TECHTARANGA-POST:7156]তিনি আরও জানান, যদি কোনো পরিবার তাদের স্বজনের কবর থেকে লাশ চুরির অভিযোগ করে, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।