মুম্বইয়ে প্রবল বর্ষণের জেরে ধস ও জলবন্দি জনজীবন; বন্ধ রাস্তা, স্কুল-কলেজে ছুটি
প্রবল বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। বিশেষ করে মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধস, গাছ ভেঙে পড়া এবং জলমগ্ন রাস্তায় একের পর এক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পুনে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে ও পুরোনো মুম্বই-পুনে জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। থানে, পালঘর ও রায়গড় জেলায় জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট।[TECHTARANGA-POST:10626]পুলিশ সূত্রে খবর, লোহাগড় দুর্গের কাছে পাটন গ্রামে ধসের জেরে একটি পরিবার আটকে পড়েছে। তাঁদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। অন্যদিকে, কুরলায় রাস্তার ধারে একটি দোকানের উপর গাছ ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে ৬৩ বছরের ইউনূস কুন্দ্রাওয়ালার। তাঁর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে বৃহন্মুম্বই পুরসভা। সাকি নাকা এলাকায় খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নবি মুম্বইয়ের খারঘরের পাণ্ডবকাড়া জলপ্রপাতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নামতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক। এছাড়া মীরা রোড-ভায়ান্দর এলাকায় মোটরবাইকে যাওয়ার সময় নারকেল গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক যুবকের।[TECHTARANGA-POST:10634]প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে পুনে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের একটি কংক্রিটের স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প রাস্তাগুলিও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় দুই দিক থেকেই যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কানেক্টিং লিঙ্ক রোডের টানেল-২-এর কাছেও ধস নামায় যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি কারজাত-লোনাভলা ঘাট সেকশনে ধসের কারণে সেন্ট্রাল রেলের একাধিক ট্রেনও ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া-সহ অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মুম্বই, থানে ও পালঘরের সমস্ত স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসনের আবেদন, অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে কেউ যেন বাড়ির বাইরে না বেরোন।