মমতার বাংলায় ‘মহাজঙ্গলরাজ’ চলছে! মালদহে বিচারক নিগ্রহ নিয়ে কোচবিহার থেকে তোপ মোদীর, নিশানায় কি কমিশনও?
কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তপ্ত বাংলা! রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ১ এপ্রিল মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটারতালিকায় নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার ঘটনাকে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ বলে আখ্যা দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের আমলে খোদ বিচারকরাই নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষের অবস্থা তবে কী![TECHTARANGA-POST:7841]ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লকের মোথাবাড়িতে এসআইআর বা ভোটারতালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে শুনানি ও নথি সংক্রান্ত কাজ করছিলেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসার। কিন্তু, তালিকায় নাম না ওঠায় উত্তেজিত জনতা বিডিও অফিসের ভিতর ওই সাত বিচারককে রাতভর আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলে তাণ্ডব। অভিযোগ ওঠে, উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেই সময় কেন্দ্রীয়বাহিনীর দেখা মেলেনি। পরে, পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকেও।[TECHTARANGA-POST:7834]রবিবার কোচবিহারের সভা থেকে এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গোটা দেশ দেখেছে, কীভাবে বিচারকদের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। এটা তৃণমূলের নির্মম সরকারের মহাজঙ্গলরাজের নিদর্শন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শবযাত্রা বের করেছে এই দল। ওরা সংবিধানের গলা টিপে মারতে চাইছে।” মোদীর প্রশ্ন, যে সরকার বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে কীভাবে?[TECHTARANGA-POST:7829]প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেও রাজনৈতিক মহলে উঠছে পাল্টা প্রশ্ন। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। ফলে মোথাবাড়ির মতো ঘটনায় কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী বা যথাযথ নিরাপত্তা ছিল না, সেই দায় কি কমিশনের উপরেও বর্তায় না? তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আসলে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে রাজ্যের উপর দায় চাপাচ্ছেন।[TECHTARANGA-POST:7825]সব মিলিয়ে, মালদহের মোথাবাড়ির ছায়া এখন কোচবিহারের নির্বাচনী জনসভায়। ভোটের আগে বিচারকদের উপর এই হামলা যে রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হতে চলেছে, মোদীর ভাষণেই তা স্পষ্ট।