প্রয়োজনে স্কুলেই করতে হবে আশ্রয়শিবির! বর্ষা ও তাপপ্রবাহের জোড়া ফলায় বিকাশ ভবনের কড়া নির্দেশিকা
কলকাতা: একদিকে রাজ্যে বর্ষার আগমনী বার্তা, তো অন্যদিকে বেশ কিছু জেলায় এখনও চলছে তীব্র গরম ও দাবদাহের ভ্রূকুটি। এই দুই ভিন্ন ও চরম আবহাওয়ার সাঁড়াশি চাপের কথা মাথায় রেখে এবার রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক জরুরি নির্দেশিকা জারি করল বিকাশ ভবন। নবান্নে আয়োজিত ‘মনসুন প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ মিটিং’-এর সিদ্ধান্তের রেশ ধরে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্ষার মরসুমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা যেকোনোও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুল ভবন এবং পরিকাঠামোকে সাধারণ মানুষের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে হবে। দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শিক্ষা দফতরের বিশেষ সচিবের তরফ থেকে সমস্ত জেলাশাসক, জেলা পরিদর্শক (DI) এবং প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষা দফতরের সভাপতিদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10741]বর্ষার পাশাপাশি রাজ্যের যেসব এলাকায় এখনও তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় রয়েছে, সেখানকার পড়ুয়াদের সুরক্ষায় বিশেষ কড়াকড়ি করেছে প্রশাসন। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, দুপুরের দিকে বা তীব্র রোদের মধ্যে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোনও রকম শারীরিক কসরত, পিটি (PT) বা খোলা আকাশের নীচে খেলাধুলো করানো একেবারেই যাবে না। বাইরে কোনওরকম কর্মসূচি করার আগে আবহাওয়া দফতরের তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস ভাল করে দেখে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিতে যাতে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকে এবং গরমের কারণে কোনও পড়ুয়া যাতে অসুস্থ না পড়ে, তার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10736]রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ‘কী করবেন আর কী করবেন না’-র একটি বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। গরম থেকে বাঁচতে তৃষ্ণা না পেলেও ঘন ঘন পর্যাপ্ত জল, ওআরএস (ORS), লেবুর জল বা ঘোল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে বেরোলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক, ছাতা ও রোদচশমা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সরাসরি চড়া রোদে ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শরীরকে দ্রুত জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড করে দেয় এমন পানীয় যেমন— মদ, চা, কফি এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পার্কিং করে রাখা বন্ধ গাড়ির ভেতর ভুলেও শিশু বা পোষ্যদের একা না রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও রয়েছে এই সরকারি নির্দেশিকায়।