ধর্মতলায় সভা করতেই বদ্ধপরিকর মমতা, অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টে তৃণমূল
ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ‘শহিদ দিবস’-এর সভা করার অনুমতি চেয়ে শুক্রবার উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবির ঘনিষ্ঠ সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।[TECHTARANGA-POST:10808]তৃণমূলের দাবি, তারা আগেই কলকাতা পুলিশের কাছে সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও উত্তর মেলেনি। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দল। জানা গিয়েছে, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা।[TECHTARANGA-POST:10807] প্রসঙ্গত, পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়ার পরই তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে গিয়ে সম্ভাব্য মঞ্চের জায়গা পরিমাপ করতে দেখা গিয়েছিল। ফিতে হাতে তাঁদের সেই ছবি ও ভিডিয়ো ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এ ভাবে যেখানে সেখানে রাস্তা মাপতে চলে যাওয়া যায় না। রাস্তা আটকে তো আরওই নয়। অনুমতি চেয়েছেন, কোথায় সভা করবেন প্রশাসনই জানিয়ে দেবে।” যদিও কুণাল ঘোষের দাবি ছিল, তাঁরা ছুটির দিনে, প্রায় ফাঁকা ধর্মতলা চত্বরে গিয়েছিলেন এবং কোনওভাবেই রাস্তা অবরোধ বা সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরির উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। [TECHTARANGA-POST:10806]উল্লেখ্য, শুভেন্দুর মন্তব্যের পরই ধর্মতলা-সহ মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। ফলে ২১ জুলাইয়ের সভা কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। এদিকে, ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ পালন নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি আদালত অবমাননার মামলাও চলছে। অভিযোগ, ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা অমান্য করে ২০২৫ সালেও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সম্পূর্ণ রাস্তা আটকে সভা করেছে তৃণমূল। তৃণমূলে বড় ধাক্কা! বিজেপিতে যোগ তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদেরসেই মামলায় গত ১৯ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠিয়েছিল হাইকোর্ট। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার কাছেও হলফনামা তলব করা হয়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরও ২১ জুলাই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে। তবে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে বিকল্প পথেই তারা এগোতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।