লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আশায় দিনভর চাতক পাখির মতো লাইন!
হাওড়া: বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক তরজার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প। তবে প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়লেও হাজার হাজার যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও পৌঁছায়নি প্রাপ্য টাকা। বকেয়া টাকার দাবিতে হাওড়া সমাজ কল্যাণ দপ্তরের অফিসের সামনে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লম্বা লাইন দিচ্ছেন মহিলারা। কিন্তু কবে সেই টাকা মিলবে, সে বিষয়ে খোদ সরকারি আধিকারিকরাও কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছেন না বলেই অভিযোগ।২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে এই প্রকল্প চালু করেন। সম্প্রতি বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে সাধারণ মহিলাদের জন্য ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা বেশ কঠিন, লাইন দেওয়া মহিলাদের অভিযোগ, তাঁরা দেড় থেকে দু’বছর আগে আবেদন করলেও এখনও টাকা পাওয়া শুরু হয়নি। সরাসরি অফিস ছাড়াও ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দিয়ে বারবার আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি অনেকের। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত যাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল, তাঁরাই বর্তমানে টাকা পাচ্ছেন। পরবর্তী আবেদনকারীদের টাকা প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণে আটকে রয়েছে।এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিংহ কটাক্ষ করে বলেন, "তৃণমূল এসআইআর (SIR) লাইন নিয়ে সমালোচনা করে, অথচ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের লাইন তার চেয়ে দুই-তিনগুণ বড়। মহিলারা প্রতারিত হচ্ছেন কারণ রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে"। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছে। রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রী পুলক রায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু বরাদ্দ বাড়িয়েছেন, তাই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই মহিলারা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। তিনি মহিলাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান।এখন দেখার, ভোটের দামামা বাজার আগেই এই হাজার হাজার বঞ্চিত মহিলার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকে কি না।