'কেরালায় সিপিএম-বিজেপি লিখিত জোট' হয়েছে! দক্ষিণী রাজ্যের নাম বদল নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মমতার
কলকাতা: কেরালার নাম বদলে 'কেরলম' করার প্রস্তাবে মোদী সরকার সায় দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের নাম 'বাংলা' করার দীর্ঘদিনের দাবি কেন ঝুলে রয়েছে? মঙ্গলবার এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বঞ্চনার অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেরালায় বিজেপি ও সিপিএম-এর মধ্যে 'লিখিত জোট' তৈরি হয়েছে বলেই তাদের প্রস্তাবে এত দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:6753]মঙ্গলবার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কেরালার রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ায় আমি সেখানকার মানুষকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। কিন্তু অবাক হচ্ছি এটা ভেবে যে, কেরালা অনুমোদন পেলেও বাংলাকে কেন বছরের পর বছর বঞ্চিত করা হচ্ছে?" তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে বিধানসভায় একাধিকবার বিল পাশ করে পাঠানোর পরও কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ, রাজ্যের নাম 'West Bengal' হওয়ায় ইংরেজি বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী এ রাজ্যকে তালিকার একেবারে শেষে থাকতে হয়। তাঁর মতে, এর ফলে রাজ্যের ছেলেমেয়েরা যখন সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ দিতে যান, তখন তাঁদের একেবারে শেষে সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকী, মমতা নিজে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দিল্লির কোনও বৈঠকে যোগ দিলে 'W' দিয়ে নাম শুরু হওয়ার কারণে তাঁকে সবার শেষে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু, রাজ্যের নাম বদলে 'বাংলা' হলে তা তালিকার শুরুর দিকে চলে আসত এবং রাজ্যের গুরুত্ব বাড়ত বলে দাবি করেন তিনি।মমতার তোপ, "ওরা অনুমোদন পেয়ে গেল, কারণ কেরালায় বিজেপির সঙ্গে সিপিএম-এর একটা জোট গড়ে উঠছে। এটা এখন আর অলিখিত নয়, লিখিত জোট হয়ে গেল। আজকের ঘটনা তারই প্রমাণ।" তিনি মনে করেন, কেন্দ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই 'বাংলা-বিরোধী' অবস্থান নিয়েছে।বিদেশ মন্ত্রক আগে যুক্তি দিয়েছিল, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিভ্রান্তি হতে পারে। এর পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের মনে করিয়ে দেন, "পাকিস্তানেও পঞ্জাব আছে, ভারতেও পঞ্জাব আছে। সেখানে কোনও সমস্যা না হলে, রাজ্যের নাম বাংলা করতে কেন সমস্যা হবে?"২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের নাম বদল এবং কেন্দ্রের 'বঞ্চনা' যে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হতে চলেছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।