মুখ্যমন্ত্রীর মেগা অ্যাকশন: ৪ দিনেই বারুইপুরে পুলিশ ফাঁড়ি, কালই উদ্বোধন শুভেন্দুর
বারুইপুর: বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই নৃশংস ঘটনার পর কেটেছে মাত্র চার দিন। আর তার মধ্যেই নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের কাছে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত মঙ্গলবার যখন তিনি শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই আশ্বাসের পর প্রশাসনের তৎপরতায় মাত্র চার দিনের মাথায় তৈরি হয়ে গেল নতুন পুলিশ ফাঁড়ি। আগামী শনিবার নিজেই বারুইপুর গিয়ে এই নতুন ফাঁড়ির শুভ উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ফুঁসে ওঠে জনতা। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। সেই সময়ই স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় কোনও অভিযোগ দায়ের করতে হলে ১০ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর থানায় ছুটতে হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেন প্রয়োজনে ঘর ভাড়া নিয়ে হলেও যেন দ্রুত আউটপোস্ট চালু করা হয়। সেই নির্দেশ মতোই রেকর্ড গতিতে কাজ শেষ করে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রথমে নির্যাতিতার বাড়ি এবং পরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই এই বহুপ্রত্যাশিত ফাঁড়ির সূচনা করে কলকাতায় ফিরবেন তিনি।সূত্রের খবর, সূর্যপুরে আগে একটি পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও তা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেই ব্যবহৃত হতো। নতুন এই পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলে সূর্যপুরের মানুষকে আর ১০ কিলোমিটার দূরের থানায় দৌড়াতে হবে না, সরাসরি এই ফাঁড়িতেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা যাবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ক্যাম্পের তুলনায় এই নতুন ফাঁড়িতে অনেক বেশি সংখ্যায় পুলিশকর্মী ও অফিসার মোতায়েন থাকবেন। ফলে এলাকায় নিয়মিত টহলদারি, অপরাধ দমন এবং যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ অনেক দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারবে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝোড়ো পদক্ষেপে এবং পুলিশের ভূমিকায় আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার।বারুইপুর কাণ্ডে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্রাইম সিনের পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হলে সে পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতেই মৃত্যু হয় তার। ধৃত বাকি অভিযুক্তরা এই মুহূর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তবে এই এনকাউন্টারের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দায়িত্বভার হাতে নিয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। শুক্রবারই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল সূর্যপুরের ওই ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে পারে বলে জানা গেছে।[TECHTARANGA-POST:10793]হিডেন স্টোরিজ নিউজ