উপত্যকায় হড়পা বান ও রেড অ্যালার্ট, মাঝপথেই থমকে গেল অমরনাথ ও বৈষ্ণোদেবী যাত্রা
শ্রীনগর: উপত্যকায় প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিঘ্নিত পুণ্যার্থীদের যাত্রা। জম্মু ও কাশ্মীরে অতিভারী বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হলো পবিত্র অমরনাথ ও বৈষ্ণোদেবী যাত্রা। শনিবার প্রশাসনের তরফে এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করার পর রবিবার সকাল থেকেই পহেলগাঁও ও বালতাল— উভয় রুটেই তীর্থযাত্রীদের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের আপাতত বেসক্যাম্পেই আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে গত দু'দিন ধরে নাগাড়ে বর্ষণের জেরে রাজৌরি এবং পুঞ্চের মতো একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় বহু নিচু এলাকা কার্যত জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে, যার জেরে উপত্যকাজুড়ে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:11059]কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ জানিয়েছেন, আবহাওয়া দপ্তরের তরফে উপত্যকায় অতিভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই তড়িঘড়ি বালতাল এবং নুনওয়ান/চন্দনওয়ারী বেস ক্যাম্প থেকে আর কাউকে এগোতে দেওয়া হচ্ছে না। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি যাত্রাপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই ফের নতুন করে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৭৬ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থী অমরনাথ দর্শন সেরেছেন। কিন্তু নতুন করে দুর্যোগ শুরু হওয়ায় কাটরায় বৈষ্ণোদেবী যাত্রাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।ভাটপাড়া থানার পুলিশের বড় সাফল্য, বিহার থেকে উদ্ধার তিন নিখোঁজ নাবালিকাসময় যত গড়াচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি ততই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। দারহালি, খান্দালি, সুকতোহ এবং জামোলা নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর মধ্যেই রাজৌরিতে দারহালি নদীর একটি বিশাল বাঁধ ভেঙে প্লাবনের জল সরাসরি বাসস্ট্যান্ডের পার্কিং লটে ঢুকে পড়ে এবং চোখের নিমেষে বহু যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একের পর এক দুর্ঘটনার খবরে কাঁপছে উপত্যকা। পুঞ্চ জেলায় আচমকা বাড়ি ধসে পড়ে একই সাথে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, অন্যদিকে রাজৌরিতে ভয়ংকর ভূমিধ্বসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও একজন। দুই জেলা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, যাদের সন্ধানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।