যুদ্ধক্ষেত্রে এবার ১২ বছরের খুদেরাও! প্রথা ভেঙে বালকবাহিনীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান
তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবার স্পর্শ করল শৈশবকেও। আর ১৮ বছরের অপেক্ষা নয়, ইরানের সেনাবাহিনীতে যোগদানের ন্যূনতম বয়স একধাক্কায় কমিয়ে আনা হল মাত্র ১২ বছরে। শুক্রবার ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেছে। ১২ বছরের বালকদের সরাসরি অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে রণক্ষেত্রে নামানোর এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত বিশ্বমহল।[TECHTARANGA-POST:7636]ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে IRGC-র সাংস্কৃতিক বিষয়ক অধিকর্তা রহিম নাদালি জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘ফর ইরান’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনেই ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী বালক ও কিশোরদের যুদ্ধ সহায়কের ভূমিকায় নিয়োগ করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই এই বালক তথা কিশোরবাহিনীকে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। তেহরান-সহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের চেকপোস্ট এবং নাকাতল্লাশির কাজে তাদের মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। অর্থাৎ - শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা চাইলে তবেই তারা বাহিনীতে যোগ দিতে পারবে।[TECHTARANGA-POST:7633]ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। রাষ্ট্রসংঘের ‘কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ দ্য চাইল্ড’ (Convention on the Rights of the Child) অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের যুদ্ধে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। ইরান এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ একাধিক সংস্থা। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।[TECHTARANGA-POST:7631]বালক বা কিশোরদের সেনায় ব্যবহার করার ঘটনা ইরানে এই প্রথম নয়। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনেও IRGC এই কিশোরবাহিনীকে রাস্তায় নামিয়েছিল। সে সময় সামাজিক মাধ্যমে তাদের হাতে মরণাস্ত্রের ছবি ভাইরাল হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। এবার সরাসরি ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে ইরানের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিম এশিয়ার রণনীতিতে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করল।