Hidden Stories (বাংলা)

ধসের ধাক্কা সামলে ফের ট্র্যাকে রেল! উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ কি ফিরছে স্বাভাবিক ছন্দে?

অবশেষে স্বস্তির খবর ফরাক্কায়। টানা বৃষ্টিতে রেললাইনের নীচের মাটি ধসে যাওয়ার পর কয়েক দিন ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছিল মেরামতির কাজ। সেই কাজ শেষ হয়েছে। এ বার ইনস্পেকশন কার দিয়ে একাধিক দফায় ট্রায়াল রানও শুরু করেছে রেল। ফলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা ট্রেন পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।রেল সূত্রে খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে শনিবার রাত থেকেই ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। তবে যাত্রী নিয়ে নিয়মিত ট্রেন চালানোর আগে আরও কিছুটা সময় নিতে চাইছে রেল। কারণ ধসের জেরে লাইনের নীচের মাটি এখনও নরম। এই অবস্থায় নিরাপত্তার দিকটি একেবারে নিশ্চিত না করে দূরপাল্লার ট্রেন চালাতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। এখন মূলত অপেক্ষা রেল সেফটি কমিশনারের সবুজ সংকেতের। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝিও জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুততার সঙ্গে মেরামতির কাজ চালানো হয়েছে এবং শনিবারের মধ্যেই ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে সব ট্রেন কখন থেকে চলবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।[TECHTARANGA-POST:12329]বৃহস্পতিবার ভোরে একটানা বৃষ্টির জেরে ফরাক্কায় লাইনের নীচে প্রায় ছয় ফুট মাটি ধসে যাওয়ার পর থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রেল যোগাযোগ। প্রায় ৫৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ১৫০ জন রেলকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার দিনরাত কাজ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মাটি ও পাথরের চিপস দিয়ে জমি শক্ত করার পর ট্র্যাকের অবস্থানও ঠিক করা হয়। মেরামতের পর দু’দফায় ট্রায়াল রান হয়েছে। এর মধ্যেই শনিবারও উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতামুখী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল রয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনকে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। ট্রেন বাতিল ও ঘুরপথে পরিষেবার জেরে চরমে যাত্রী দুর্ভোগ। আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য জল ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে সরকারি বাসও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে সামলাতে সেই পরিষেবাও যথেষ্ট হয়ে উঠছে না। বিকল্প হিসেবে বিমানপথের দিকে ঝুঁকতেই কলকাতা-বাগডোগরা রুটে ভাড়াও বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

 ধসের ধাক্কা সামলে ফের ট্র্যাকে রেল! উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ কি ফিরছে স্বাভাবিক ছন্দে?