নয়াদিল্লি: বাধ্যতামূলকভাবে ঋতুকালীন ছুটির (Menstrual Leave) আবেদন খারিজ করে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তাঁর মতে, ঋতুকালীন ছুটি যদি আইনগত বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে নিয়োগকর্তারা মহিলা কর্মীদের চাকরিতে নিতে অনীহা প্রকাশ করবেন। শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সাফ জানান, এই ধরনের নিয়ম মহিলাদের কর্মসংস্থানের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।[TECHTARANGA-POST:7266]আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, দেশের প্রতিটি রাজ্যে স্কুল-কলেজের ছাত্রী এবং কর্মরতা মহিলাদের জন্য ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত। পিটিশনে ২০১৩ সালে কেরালা সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের উদাহরণ টানা হয়। যেখানে রাজ্যের অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকী, কিছু বেসরকারি সংস্থাও বর্তমানে এই সুবিধা দিচ্ছে বলে আদালতে জানানো হয়।[TECHTARANGA-POST:7265]আবেদনকারীর এই যুক্তি শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তা সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি আদালতের পর্যবেক্ষণে বলেন, "ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হলে মহিলাদের মনে একটি ভয়ের সৃষ্টি হবে। তাঁদের মনে হতে পারে যে তাঁরা পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে। তাই, এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু, আইন করে ছুটি বাধ্যতামূলক করলে একের পর এক সংস্থা মহিলাদের চাকরি দেওয়া বন্ধ করে দেবে।"[TECHTARANGA-POST:7264]প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, কর্পোরেট বা কর্মক্ষেত্রের কর্তৃপক্ষের মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষণশীল। আইন তৈরি হলে নিয়োগকর্তারা অজুহাত দেবেন যে মহিলারা 'নিম্নমানের' কাজ করছেন বা ঋতুস্রাবকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরবেন। ফলে এই অধিকার আদায়ের লড়াই হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।আদালতের মতে, এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত (Policy Decision), যা সরকারের বিবেচনা করা উচিত। আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম চাপিয়ে দিতে চায় না।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার