মোদী জমানার প্রথম ডিজিট্যাল জনগণনা! আপনার দরজায় আসছে ৩৩ প্রশ্নের তালিকা
নয়াদিল্লি: প্রতীক্ষার অবসান। মোদী সরকারের আমলে দেশে শুরু হতে চলেছে বহুপ্রতীক্ষিত প্রথম আদমশুমারি বা সেনসাস। তবে, এবারের জনগণনা প্রথাগত খাতা-কলমে নয়, হতে চলেছে সম্পূর্ণ ডিজিট্যাল পদ্ধতিতে। আজ - অর্থাৎ - ১ এপ্রিল (২০২৬) থেকেই দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। রেজিস্ট্রার জেনারেল ও দেশের সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন, ডিজিট্যাল পন্থায় তথ্য সংগ্রহের ফলে ২০২৭ সালের মধ্যেই অধিকাংশ পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।[TECHTARANGA-POST:7739]জনগণনার প্রথম ধাপে আপনার কাছে জানতে চাওয়া হবে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর। কী থাকছে সেই তালিকায়? গণনাকারীরা যখন আপনার দুয়ারে পৌঁছবেন, তখন বাড়ির খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য - সবই রেকর্ড করা হবে। সেই প্রশ্নতালিকায় রয়েছে - বাড়ির নম্বর এবং সেনসাস হাউস নম্বর।বাড়ির মেঝে, দেওয়াল এবং ছাদ তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রীর বিবরণ।বাড়ির বর্তমান অবস্থা এবং ব্যবহার।পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা এবং গৃহকর্তার নাম ও লিঙ্গ।পরিবারটি তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) বা অন্য সম্প্রদায়ের কিনা।বাড়ির ঘরের সংখ্যা এবং মালিকানার ধরন।পরিবারের বিবাহিত সদস্য সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য।এবারের সেনসাসের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল 'সেলফ এনুমারেশন'। ডিজিট্যাল সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে ভরসা রেখে সরকার সাধারণ মানুষকে মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যমে নিজেদেরই তথ্য জমা দিতে উৎসাহ দিচ্ছে। এতে গণনাকারীদের উপর চাপ কমবে এবং তথ্যের নির্ভুলতা বাড়বে। উল্লেখ্য, এর আগের প্রতিটি সেনসাস কাগজে-কলমে হওয়ার পর তা স্ক্যান করে ডিজিট্যাল করা হত, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।২০১১ সালের শেষ জনগণনার তুলনায় এবারের পরিসংখ্যানে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যেমন - ২০১১ সালের তুলনায় দেশে গ্রামের সংখ্যা ৬,৪০,৯৩২ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬,৩৯,৯০২-এ। অন্যদিকে, ২০১১ সালে দেশে জেলা ছিল ৬৪০টি, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৭৮৪টি। এছাড়া, উপজেলা বা ব্লকস্তরেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ৫,৯৯০টি উপজেলা বেড়ে হয়েছে ৭,০৯২টি (২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী)।সেনসাস কমিশনার জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রক্রিয়া শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও এই সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা চলছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, জাতিগত সমীক্ষা বা কাস্ট সেনসাস নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে থাকলেও তা এখনই হচ্ছে না। দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মীয় ও জাতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। তবে লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মতো দুর্গম এলাকায় এই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দুই ধাপের কাজ মিটিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।