দিদিকে চ্যালেঞ্জ, মোদীকে হুঁশিয়ারি! ওয়েইসিকে পাশে নিয়ে মুর্শিদাবাদে ইস্তেহার প্রকাশ হুমায়ুনের
নওদা: বাংলার ভোটের ময়দানে এবার নতুন সমীকরণ। তৃণমূলত্যাগী নেতা হুমায়ুন কবীর এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি হাত মিলিয়ে প্রকাশ করলেন তাঁদের নির্বাচনী ইস্তেহার। মুর্শিদাবাদের নওদার ডুবাপাড়া মাঠের জনসভা থেকে প্রকাশিত এই ইস্তেহারের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনগণের উন্নয়ন, সবার অধিকার’। যদিও হুমায়ুন-ওয়েইসি জুটি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজনীতির কারবারিদের মতে, এই ইস্তেহারের আড়ালে সুকৌশলে মেরুকরণের তাসই খেলছেন তাঁরা।[TECHTARANGA-POST:7748]আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ইস্তেহারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে। সেই অনুসারে - মুর্শিদাবাদে বিমানবন্দর: দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জেলায় বিমানবন্দর তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।[TECHTARANGA-POST:7745]সংখ্যালঘু উন্নয়ন: আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের উপর।কৃষি ও পরিকাঠামো: কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।এদিন নওদার সভা থেকে চড়া সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর প্রশ্ন, “বাংলায় বিজেপির সাংসদ এত বেড়ে গেল কীভাবে?” মমতার সামনে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁদের লড়াই মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য হলেও তা কোনও হিন্দুর বিরুদ্ধে নয়। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে কোচবিহার, নদিয়া, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন জেলায় ওয়েইসিকে নিয়ে আরও ২০টি সভা করবেন তিনি।ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১৯৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এই জোট। তবে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই জোট নির্বাচনে বড় কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না। তবে, বেশ কিছু আসনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগ করে ‘ভোট কাটুয়া’র ভূমিকা নিতে পারে তারা। উন্নয়নের মোড়কে মেরুকরণের এই চেষ্টা ইভিএমে কতটুকু দাগ কাটে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই নতুন ফ্রন্ট তৃণমূল বা বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।