এত অল্প বয়সেই পাতলা চুল? জেন জি-র চুল পড়া বাড়াচ্ছে কোন ৩ বদ অভ্যাস!
চুল পড়া মানেই বয়স বেড়ে যাওয়া, এই ধারণা অতীত। কুড়ির কোঠাতেই অনেকের চুলের ঘনত্ব কমছে, ভেঙে যাচ্ছে ডগা, আগের তুলনায় পাতলা হয়ে পনিটেলের ভলিউম। মজার বিষয়, ত্বক ও চুলের যত্নে আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হওয়ার পরেও জেন জি-র মধ্যে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে শুধু কোনও একটি কারণ নয়, রয়েছে একাধিক বিষয়। [TECHTARANGA-POST:12313]১. দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কাজের চাপ, পড়াশোনা, আর্থিক দুশ্চিন্তা, চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তো আছেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সবসময় অনলাইনে থাকার অভ্যাস। দীর্ঘদিনের এই মানসিক চাপ প্রভাব ফেলে চুলে। বিশেষ করে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুলের ফলিকল একসঙ্গে বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এর কিছু সময় পর হঠাৎ করে বেশি চুল পড়তে শুরু করতে পারে। তাই চুল পড়া বেড়ে গেলে শুধু নতুন শ্যাম্পু বা সিরামের দিকে না তাকিয়ে নিজের জীবনযাপনের পরিবর্তনগুলিও খেয়াল করা জরুরি।২. ডায়েটে বড় ঘাটতিদ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা, ক্র্যাশ ডায়েট কিংবা খাবারে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলেও চুলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ওজন কমানোর জন্য খাবার একেবারে কমিয়ে দেওয়ার বদলে সুষম খাবারে জোর দেওয়া উচিত। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন।৩. অতিরিক্ত স্টাইলিংয় সব চুল পড়াই যে গোড়া থেকে হচ্ছে, তা নয়। অনেক সময় চুল ভেঙে যাওয়াকেও অতিরিক্ত হেয়ার ফল বলে মনে হয়। বারবার স্ট্রেটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার, ঘন ঘন হেয়ার কালার বা ব্লিচ, অতিরিক্ত রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট, খুব টাইট করে চুল বাঁধা কিংবা নিয়মিত এক্সটেনশন ব্যবহারে চুলের শ্যাফট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে চুল মাঝখান থেকে বা ডগা থেকে ভেঙে পাতলা দেখাতে শুরু করে।[TECHTARANGA-POST:12312]সমধান কী?চুলের সমস্যা সামলাতে অনেক সময় বেসিকেই ফিরে যাওয়া সবচেয়ে জরুরি। নিয়মিত ও সুষম খাবার খান, অযথা অতিরিক্ত হিট বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট কমান। খুব টাইট করে চুল বাঁধার অভ্যাসও বদলান। শুধু ঘরোয়া হেয়ারপ্যাকের উপর ভরসা না করে সমস্যার ধরন বোঝার চেষ্টা করুন। আচমকা খুব বেশি চুল পড়া, মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, টাকের মতো ফাঁকা অংশ তৈরি হওয়া বা দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।