শরীর শেষ হলেও লড়াই জারি! মৃত্যুর মুখ থেকে ‘সংসদ অভিযান’-এর ডাক ওয়াংচুকের
নয়াদিল্লি: চিকিৎসকরা বলছেন আর মাত্র দু’টো দিন, অনশন না ভাঙলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে চরম বিপর্যয়। শারীরিক সমস্ত প্যারামিটার দিচ্ছে তীব্র বিপদের সঙ্কেত, এমনকি দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলাও। কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অদম্য জেদ লদাখের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের। দিল্লির যন্তর মন্তরে বসা অনির্দিষ্টকালের অনশন আন্দোলনের ১৯তম দিনে পৌঁছে নিজের চরম শারীরিক অবনতির কথা স্বীকার করে নিলেও, পিছু হটতে নারাজ তিনি। উল্টে মোদী সরকারের ঘুম উড়িয়ে দিয়ে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনেই দেশবাসীকে ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিলেন এই সমাজকর্মী।[TECHTARANGA-POST:10971]গত ২৮ জুন থেকে নিট (NEET) সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছেন ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে অনড় সোনমের শরীর গত ১৯ দিনে কার্যত কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছে। সিজেপি (CJP) পার্টির সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে থাকা ওয়াংচুকের ওজন এক ধাক্কায় প্রায় ৯ কেজি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭.১৫ কেজিতে। রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রাও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এক লাইভ ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি হয়তো ভালো অবস্থায় নেই, কিন্তু লড়াই করার ক্ষমতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। হাত-পায়ে জোর না পেলেও তাঁর হৃদয় ও শরীর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থে এখনও লড়তে প্রস্তুত।[TECHTARANGA-POST:10960]অনুরাগী ও বিশিষ্ট জনেদের অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে সোনম দেশবাসীর উদ্দেশে জানিয়েছেন, অন্য কারও মধ্যে নায়ক না খুঁজে দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ না করে, বরং সবাই যেন ২০ জুলাই সংসদের অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় যোগ দেন। একই সঙ্গে সরকারের চরম উদাসীনতাকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, কেন কেন্দ্র ন্যূনতম আলোচনাটুকু করতেও এগিয়ে আসছে না? এদিকে ওয়াংচুকের সমর্থনে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বিরোধী নেতা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছে একদিনের গণ-অনশনও। এখন দেখার, ১৯ দিনের এই মরণপণ লড়াই ও ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের ডাক কেন্দ্রের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।