এসি আর ওয়াইফাই আছে, নেই বাঁচার পথ! নিউ মার্কেটের গলিতে গলিতে লুকিয়ে আরও কত 'শিখা ইন'?
কলকাতা: 'শিখা ইন'-এর ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ার রেশ এখনও কাটেনি। কিন্তু দমকলের ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা নিউ মার্কেট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট কিংবা মার্কুইস স্ট্রিটের তথাকথিত 'হোটেলপাড়া'র ছবিটা একচুলও বদলায়নি। চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়কে পুঁজি করে মির্জা গালিব স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে একের পর এক বিপজ্জনক মরণফাঁদ। ভস্মীভূত হোটেলটির মাত্র দেড়শো মিটারের মধ্যেই থাকা বহু বহুতলে চলছে বেআইনি হোটেলের রমরমা ব্যবসা, যেখানে প্রাণহানির চরম ঝুঁকি কার্যত নিত্যদিনের সঙ্গী।এলাকার এক একটি পাঁচতলা ভবনে আবাসিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক অফিস ও হোটেলের অদ্ভুত সহাবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বহুতলের প্রবেশপথেই ঝুলছে বিপজ্জনক ইলেকট্রিক তার ও মিটারবক্সের জটলা। ৯ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিট সংলগ্ন বহুতলগুলিতে দেখা যাচ্ছে, শৌচালয় তৈরির জন্য বরাদ্দ একচিলতে খুপরিতেই গ্যাস সিলিন্ডার ও ওভেন বসিয়ে হোটেলকর্মীদের রান্নাঘর চালানো হচ্ছে। এমনকি পানীয় জলের জোগানও দেওয়া হচ্ছে সেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকেই। আগুন লাগলে জরুরি প্রস্থান তো দূরস্থান, বহু জায়গায় লিফটের সামনে বস্তা ও ভাঙাচোরা আসবাবপত্র জমিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে নিচে নামার বিকল্প সিঁড়িও সংকীর্ণ ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা।চকচকে টাইলস, দেওয়ালজোড়া সিসিটিভি ক্যামেরা, ফ্রি ওয়াই-ফাই কিংবা প্রবেশদ্বারে 'ইন্টারন্যাশনাল' তকমা সাঁটা সাইনবোর্ড থাকলেও পাঁচতলা ভবনের চল্লিশটি ঘরের নিরাপত্তার জন্য সেন্ট্রালাইজড ফায়ার অ্যালার্ম বা স্বয়ংক্রিয় স্প্রিঙ্কলারের কোনও অস্তিত্ব নেই। ন্যূনতম অগ্নি-সুরক্ষাবিধি না মেনে স্রেফ গুটি কয়েক সিলিন্ডারের ভরসায় দায় সারছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। আবাসিক ভবনে এমন বেআইনি বাণিজ্যিক কারবার চললেও পুরসভা ও প্রশাসনের স্পষ্ট নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলত, সুরক্ষাবিধির এই চরম অবহেলা বজায় থাকলে নিউ মার্কেট চত্বরে যে কোনও মুহূর্তে আরও একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটে যাওয়া শুধুই সময়ের অপেক্ষা।[TECHTARANGA-POST:11793]হিডেন স্টোরিজ নিউজ