রক্তের সম্পর্ককে গিলে খেল জমি! সালিশি সভায় ডেকে ভাগ্নেকে পিটিয়ে ‘খুন’ মামার, চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদে
মুর্শিদাবাদ: জমির সামান্য টুকরো নিয়ে বিবাদ, আর তার জেরেই রক্তের সম্পর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভাগ্নেকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ আপন মামার বিরুদ্ধে! সালিশি সভায় ডেকে প্রকাশ্য দিবালোকে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানা এলাকার দামরুল গ্রামে। মৃতের নাম সানারুল শেখ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মামা হারু শেখকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সালিশি সভায় উপস্থিত থাকা আরও চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।৩০০ প্লটের জাল বিছিয়েছিলেন অভিষেকের পিএ! পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দামরুল গ্রামের বাসিন্দা সানারুল শেখের সঙ্গে তাঁর মামা হারু শেখের জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। সেই পারিবারিক বিবাদ মেটানোর জন্যই গত ২০ জুন সন্ধ্যায় গ্রামে একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গ্রামের বেশ কয়েকজন মাতব্বরসহ মামা ও ভাগ্নে দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আলোচনা চলাকালীন আচমকাই দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মামা হারু শেখ একটি ভারী গাছের ডাল নিয়ে ভাগ্নে সানারুলের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। মামার ক্রমাগত মারে মাথা ও শরীরে মারাত্মক চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন সানারুল।[TECHTARANGA-POST:10272]ঘটনার পরেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় সানারুলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে রেফার করেন। গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার হাসপাতালেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন ওই যুবক। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, গত ২৩ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সানারুল। বুধবার ময়নাতদন্তের পর তাঁর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত মামা। তবে সানারুলের মৃত্যুর খবর আসতেই তত্পরতা বাড়িয়ে মূল অভিযুক্ত হারু শেখকে খাঁচায় পুরেছে নবগ্রাম থানার পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।