কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের আটকানোর অভিযোগে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই চেনা মেজাজে চরম পাল্টা হুঙ্কার দিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, সময় বদলে গিয়েছে, সংযম দেখাচ্ছেন বলেই তৃণমূলের নেতারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নইলে চাইলে রাস্তায় জামাকাপড় খুলে পেটানো যে কোনও বড় ব্যাপার নয়।[TECHTARANGA-POST:11152]মঙ্গলবার শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় আসার পথে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের আটকেছে বিজেপি। বুধবার সকালে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে প্রশ্ন করতেই ফুঁসে ওঠেন দিলীপ ঘোষ। সোজা ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, অতীত ভুলে গেলে চলবে না। অতীতে বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া আক্রমণ ও নির্যাতনের কথা টেনে এনে তিনি দাবি করেন, এখন বদলেছে ক্ষমতার চাকা। বিজেপি শাসক হলেও তারা কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেনি।এরপরই নিজের স্বভাবসিদ্ধ কড়া ভাষায় দিলীপ ঘোষ বলেন, "আমাদের সঙ্গে অতীতে যা করেছেন, আমরা কিন্তু তার কিছুই করিনি। চাইলে জামাকাপড় খুলে রাস্তায় মারতে পারি। এখনও সেটা চাইলে পারি।" বিরোধী তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানের দিলীপ সংযত রয়েছে বলেই দলীয় নেতারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাই তাঁদের শক্তি বা সংযমকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে।[TECHTARANGA-POST:11149]বিজেপি কাউকে মেরেছে বা একুশে জুলাইয়ের সভায় আসতে বাধা দিয়েছে— এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তাঁর দাবি, একুশে জুলাইয়ের ফ্লপ শো ঢাকা দিতে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা মেটাতেই তৃণমূল এখন বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার এই টানাপোড়েনে দিলীপের এমন ‘দাবাং’ হুঙ্কারের পর আবারও তরজা চরমে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতিতে।