Dhruv Rathee: মোদী সরকারের কড়া নজরদারিতে উত্তপ্ত রাজধানী! যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই পুলিশি বাধায় আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী
নয়াদিল্লি: দিল্লি জুড়ে তুমুল উত্তেজনা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে গোটা রাজধানী। আর এই প্রতিবাদের আগেই বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার ঠিক আগেই শনিবার সকালে গুরুগ্রামের নিজ বাসা থেকে আটক করা হল জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে। গুরুগ্রাম পুলিশের পক্ষ থেকে এই আটকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ আইন পরিবর্তনের দাবিতে শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’-র ডাক দিয়েছে সিজেপি। এই আন্দোলন রুখতে শুক্রবার রাত থেকেই কঠোর পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, ট্রেন চলাচলেও বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। এমনকি জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থলসহ সংলগ্ন চার কিলোমিটার এলাকায় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।রাজধানীর সুরক্ষায় নজিরবিহীন বন্দোবস্ত করেছে প্রশাসন। রাস্তায় ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজার কর্মী এবং ২৬ হাজার কেন্দ্রীয় জওয়ান রয়েছে। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকেও অতিরিক্ত পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী আনা হয়েছে। হোটেল, গেস্ট হাউস এবং হস্টেলগুলিতে শুরু হয়েছে তল্লাশি। বাইরে থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের উপর চলছে কড়া নজরদারি। প্রথমে বলা হয়েছিল, দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ এবং প্রস্থান নিষিদ্ধ থাকবে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সারা দিন। পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কোনও আন্দোলনকে ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। রাতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন নির্দেশিকা পরিবর্তন করে। জানায়, ৫৭টির পরিবর্তে ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে শনিবার দিনভর।ট্রেন পরিষেবাতেও রাশ টানা হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হজ়রত নিজ়ামুদ্দিন স্টেশনে যে সমস্ত মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন পৌঁছোনোর কথা ছিল, সব বাতিল ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, পুলিশ দিল্লির হোটেল, গেস্ট হাউস, হস্টেল এবং পেয়িং গেস্ট পরিষেবাগুলিতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে কারা বাইরে থেকে এসে দিল্লিতে থাকছেন, জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষত তরুণ-তরুণীদের বড় কোনও দলকে একসঙ্গে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে পুলিশের মাইকিং। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বিস্তীর্ণ অংশে। সেখানে বড় জমায়েত এবং অন্যান্য কার্যকলাপ যে নিষিদ্ধ, লাউডস্পিকারের মাধ্যমে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।এই চরম পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, তরুণ প্রজন্ম এবং আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে মোদী সরকার। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এদিকে ধরপাকড় ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে সাধারণ মানুষ। এখন দেখার, পুলিশের এই কড়া বেষ্টনী পেরিয়ে আন্দোলন কতটা দানা বাঁধে।[TECHTARANGA-POST:13522]