দার্জিলিং স্টেশনে চরম বিপত্তি! হুড়মুড়িয়ে ভাঙল আস্ত ট্রেনের শেড, রক্তারক্তি কাণ্ডে তীব্র চাঞ্চল্য
দার্জিলিং: বিশ্ববিখ্যাত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে আচমকা চরম বিপর্যয়। বুধবার সাতসকালে দার্জিলিং স্টেশনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত টয় ট্রেনের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লোকো শেডের একাংশের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত সাত জন রেলকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা স্টেশন চত্বর ও পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে।দার্জিলিং হিমালয়ান রেল (ডিএইচআর) সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে লোকো শেডের ভেতরে কর্মীরা যখন নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই ছাদের একটি বড় অংশ বিকট শব্দে ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তে সেখানে থাকা অন্তত সাত জন কর্মী কমবেশি চোট পান। দুর্ঘটনার তীব্রতা নজরে আসতেই আশপাশের অন্য সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে রেল সূত্রে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, আহত কর্মীদের কারোর চোটই আশঙ্কাজনক নয় এবং তাঁরা প্রত্যেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের পদস্থ আধিকারিকেরা। এলাকাটি ঘিরে ফেলে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে এবং জোরদার করা হয়েছে নজরদারি। মূলত টয় ট্রেনের ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও রাখার কাজে ব্যবহৃত এই ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ শেডের এমন পরিণতি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, রাত থেকেই পাহাড়জুড়ে প্রবল বৃষ্টি চলছিল এবং সেই কারণেই সকালে লোকো শেডের একাংশ ধসে পড়ে। স্থানীয় ও কর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়েছে। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা নাকি টানা বর্ষণের জেরেই এই বিপত্তি, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:12222]হিডেন স্টোরিজ নিউজ