ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত ৩২১ বিজেপি কর্মীর পরিবারকে সরকারি চাকরি! ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ফলতা: একুশের নির্বাচনের পর বাংলায় যে রক্তক্ষয়ী হিংসার সাক্ষী থেকেছিল রাজ্য রাজনীতি, তার ক্ষত মেটাতে এবার সবচেয়ে বড় মানবিক ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ ঘোষণা করলেন, একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় বাংলায় যে ৩২১ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেবে নতুন বিজেপি সরকার।[TECHTARANGA-POST:9259] ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রথম বার্তা দিয়েছিলেন যে, বিগত বছরগুলিতে অত্যাচারিত ও নিহত দলীয় কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব সম্পূর্ণ তাঁর। মঙ্গলবার ফলতার মাটি থেকে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণেরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন তিনি, যা একাধারে স্বস্তির হাওয়া এনে দিল আক্রান্ত পরিবারগুলিতে এবং অন্যদিকে তীব্র চাপ তৈরি করল বিরোধী শিবিরের ওপর।[TECHTARANGA-POST:9261]স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল বিজেপি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দফায় দফায় বাংলায় এসে ২০০ আসনের টার্গেট বেঁধে দিলেও সেবার স্বপ্নপূরণ হয়নি পদ্মশিবিরের। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির অভিযোগ, ফল প্রকাশের পর থেকেই জেলায় জেলায় বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় ঘরবাড়ি এবং নির্মমভাবে খুন করা হয় ৩২১ জন দলীয় কর্মীকে। দীর্ঘ ৫ বছর পর, ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার মানুষ এবার ঢেলে আশীর্বাদ করেছেন বিজেপিকে। আর ক্ষমতায় এসেই সেই পুরনো ট্র্যাজেডির শিকার হওয়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:9241]নিহতদের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি, ফলতা এলাকার আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের জন্যও এদিন বিশেষ সুরক্ষাকবচের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে উপস্থিত ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নির্বাচন মিটে ফল প্রকাশের পরই এই এলাকায় বিগত দিনে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত ও ঘরছাড়া হওয়া সমস্ত বিজেপি কর্মীর একটি নিখুঁত তালিকা যেন সরাসরি তাঁর দফতরে পাঠানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেক আক্রান্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার সভা থেকে শুভেন্দুর এই মাস্টারস্ট্রোক যেমন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করল, তেমনই বুঝিয়ে দিল যে নতুন সরকারে অন্যায়ের প্রতিকার হবে দ্রুত গতিতে।