কলকাতাঃ পোস্তায় হাওলা গদিতে কোটি টাকার ডাকাতির ঘটনায় তদন্তে বড়সড় মোড়। কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লুটের নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত চক্র। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ললিত মুন্দ্রা নামে এক হাওলা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল ডাকাতদের খোঁজে এবার রাজস্থানের বিকানেরে যেতে পারে কলকাতা পুলিশের দল।[TECHTARANGA-POST:11995]ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। পোস্তার কটন স্ট্রিটের একটি হাওলা গদিতে আচমকাই ঢুকে পড়ে তিন দুষ্কৃতী। পরিচয় গোপন করে, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গদির কর্মীদের ভয় দেখিয়ে নগদ ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তদন্তে নেমে প্রথমেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, তিন ডাকাতের আগে আগে ওই ব্যক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। গদির কাছাকাছি পৌঁছে সে একটি দোকানে বসে চা খেতে থাকে। ডাকাতরা ভিতরে ঢোকার পরও সেখানেই ছিল সে। এর মধ্যেই কাউকে ফোন করতে দেখা যায় তাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিন দুষ্কৃতী গদি থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর ওই ব্যক্তিকেও তাদের পিছন পিছন হেঁটে যেতে দেখা যায়। তদন্তে জানা যায় ওই ব্যক্তির নাম ললিত মুন্দ্রা। পুলিশের দাবি, নিজেও হাওলা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ললিতই ডাকাতদের ‘টিপার’ হিসেবে কাজ করেছিল। তাকে ধরতে সোমবার সালকিয়ায় ললিতের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই বাড়ি ছেড়ে হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছে সে। তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছে দেখে, গুজরাটগামী গান্ধীধাম এক্সপ্রেসে উঠে পড়েছে ললিত। ট্রেন ছাড়ার আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি। তার আগেই তাকে পাকড়াও করে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:11994]জেরায় ললিত দাবি করেছে, পোস্তার গদি থেকে লুট হওয়া ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হাওলার টাকা। ডাকাতরা লুঠের পর হাওড়া স্টেশন হয়ে মধ্যপ্রদেশের দিকে পালিয়েছে বলেও দাবি করেছে সে। ডাকাতদের বাড়ি রাজস্থানের বিকানেরে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ফলে তাদের ধরতে এবার বিকানেরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে। ডাকাতির পর ওই হাওলা গদির তিন কর্মীও নিখোঁজ। তাঁরা কোথায় গিয়েছেন, কেনই বা ঘটনার পর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ মিলছে না সবদিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।