ভোটের মুখে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি: কয়লা পাচার মামলায় দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার আইপ্যাক কর্তা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের একবার সক্রিয় হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এবার কয়লা পাচার মামলার জালে ধরা পড়লেন খোদ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল। সোমবার দিল্লির বুক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার কাণ্ডে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা হাওয়ালার সঙ্গে চান্ডেলের যোগসূত্র মিলেছে। গত ২ তারিখ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর আজ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিল ইডি।অর্থ পাচার মামলায় ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর অন্যতম কর্তা ভিনেশ চান্ডেলকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার ভোরে দিল্লির পটিয়ালার আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7977]রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেপ্তারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ আগামী বুধবারই সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। তার ঠিক আগেই চান্ডেলের গ্রেপ্তারিতে চাপ বাড়ল আইপ্যাক ও শাসক শিবিরের ওপর। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় এর আগে প্রতীক জৈন এবং ঋষি রায় সিংয়ের মতো সংস্থার অন্য শীর্ষ আধিকারিকদেরও তলব করেছিল ইডি। তবে সামনেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন থাকায়, আপাতত হাজিরা এড়াতে তাঁরা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:7972]কয়লা পাচার কাণ্ডকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এখন চরমে। ইতিপূর্বে আইপ্যাকের অফিসে ইডির অভিযানের সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে পৌঁছে যাওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। ইডি যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি ছিল— নির্বাচনের আগে কৌশলী নথিপত্র হাতিয়ে নিতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে ভিনেশ চান্ডেলের এই গ্রেপ্তারি রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।