১৯ বছর পর বারাকপুরের সেই হাইপ্রোফাইল স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মূল পাণ্ডা গ্রেপ্তার
বারাকপুর: সময় কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৯ বছর। বদলে গিয়েছিল নাম, পরিচয় আর আস্তানাও। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। অবশেষে বারাকপুরের বহু চর্চিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত শিবু কুমার সিংকে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের রায়গঞ্জ রোডের সাউথ গান্ধী আশ্রম এলাকার এক গোপন আস্তানা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এতগুলো বছর ধরে ভারতের ওই প্রান্তে নিজের আসল নাম ভাঁড়িয়ে ‘অখিলেশ কুমার শাহি’ পরিচয় দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল এই মোস্ট ওয়ান্টেড খুনি।রক্তাক্ত সেই ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালের ৬ জুলাই। বারাকপুরের চিড়িয়ামোড়ের বাসিন্দা, পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুকান্ত ঘোষ সেদিন একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। স্ত্রীকে বলে যান, ব্যবসার কাজেই বাইরে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু তার পরের দিনই লাটবাগানের জহর কুঞ্জের কাছ থেকে উদ্ধার হয় সুকান্তবাবুর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, ব্যবসায়ীর শরীরে ছিল নৃশংসভাবে আঠেরোটি কোপানোর দাগ। অভিযোগ ওঠে, ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করেছিলেন তৎকালীন এক সিপিএম বিধায়ক ও তাঁর শাগরেদরা। ব্যবসায়ী সেই টাকা দিতে সোজা অস্বীকার করায় তাঁকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয় এবং নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এই ঘটনার পরই পুলিশ তদন্তে নেমে সিধু সিং, বিকাশ সিং ও বিশ্বজিৎ গুহ নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল চক্রী শিবু কুমার সিংয়ের কোনও হদিশ মেলেনি।পরবর্তীতে তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ২০০৯ সালে গোটা মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। আদালতের নির্দেশে গঠিত সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) দীর্ঘ তল্লাশির পর ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর আদালতে একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে। সেই চার্জশিটেই শিবু কুমার সিং-সহ আরও তিনজনের নাম যুক্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘ চেষ্টা করেও তার খোঁজ না মেলায় ২০১৬ সালে আদালত শিবুকে সরকারিভাবে পলাতক ঘোষণা করে। অবশেষে দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ল এই মূল পাণ্ডা। এই হাইপ্রোফাইল গ্রেপ্তারি বারাকপুরের পুরনো রাজনৈতিক ও অপরাধ জগতের সমীকরণকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10942]হিডেন স্টোরিজ নিউজ