৭ বছর ভোটহীন বালি পুরসভা: পরিষেবা না পেয়ে সরব আমজনতা
বালি: প্রদীপের নিচে অন্ধকার! খোদ শহর সংলগ্ন বালি পুরসভার প্রশাসনিক অবস্থা বর্তমানে ‘রাম ভরসায়’ চলছে বললেও ভুল হয় না। গুরুত্বপূর্ণ সব পদ খালি পড়ে থাকায় কার্যত ভেঙে পড়েছে পুর-পরিষেবা। দীর্ঘ সাত বছর ধরে ভোট না হওয়া এবং কর্মী সংকটের জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।[TECHTARANGA-POST:6326]বালি পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। পুরসভার ক্যাশিয়ার পদটি গত ১১ বছর ধরে খালি পড়ে আছে। ওই পদের দায়িত্বে থাকা সহকারী ক্যাশিয়ারও চার বছর আগে বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে নগদ লেনদেনের দায়িত্ব কার হাতে, তার সদুত্তর নেই খোদ প্রশাসকের কাছেও।[TECHTARANGA-POST:6322]শুধু ক্যাশিয়ার নয়, হেড ক্লার্ক পদটিও শূন্য। যিনি ওই পদে ছিলেন, তাঁকে ‘সিলভার জুবিলি মাতৃসদন’-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলি খালি থাকায় সাধারণ মানুষের শংসাপত্র তোলা থেকে শুরু করে জন্ম-মৃত্যু নথিকরণ—সব কাজই থমকে রয়েছে।পুরসভার এই বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সিপিএম নেতা শঙ্কর মৈত্র তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, বালিতে বর্তমানে ‘রাম রাজত্ব’ চলছে—অর্থাৎ যাঁর যখন যা ইচ্ছা, তিনি তাই করছেন। বিজেপি নেতা বিনীত পাণ্ডে সরাসরি স্থানীয় বিধায়ক তথা পুর-প্রশাসক ‘ডাক্তার বাবু’র কাছে গত চার বছরের কাজের হিসাব চেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, বিধায়ক বা প্রশাসক হিসেবে তিনি বালির মানুষের জন্য ঠিক কী কাজ করেছেন?বালি পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো এবং কর্মী সংকট নিয়ে বিরোধীদের করা ‘রাম ভরসা’র তত্ত্বে কড়া জবাব দিলেন পুর-প্রশাসক রানা চট্টোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিরোধীদের কাছে উন্নয়নমূলক কোনো এজেন্ডা না থাকায় তাঁরা সব কিছুতেই ভগবান রামচন্দ্রকে টেনে আনছেন।রানা চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে পুরসভার পরিকাঠামোয় কিছু ঘাটতি বা 'ডেফিসিট' রয়েছে, তবে সেগুলি পূরণ করতে প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে, বিগত তিন মাসে বালি পুরসভার কাজের গতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, যার সুফল এলাকার মানুষ পাচ্ছেন।২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়া কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পর ২০২১ সালে ফের আলাদা করা হলেও, গত ৭ বছর এখানে কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার কেউ নেই। নাগরিক পরিষেবার এই কঙ্কালসার চেহারা কবে বদলাবে এবং কবে বালি পুরসভা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন তিতিবিরক্ত বালি-বাসী।