ঢাকা: ভোটের আগে অবস্থান ছিল এক, ক্ষমতায় আসার পর যেন সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছে সরকার—আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিএনপি সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।[TECHTARANGA-POST:7805]অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে এবার আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। শুধু তাই নয়, অধ্যাদেশে সংশোধন এনে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, আওয়ামি লীগের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।উল্লেখযোগ্য বিষয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে জানিয়েছিল—নির্বাহী আদেশে কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয়। বরং এই ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার পথে হাঁটছে তারা।১৩ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। সেগুলি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ইতিমধ্যেই কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম এই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ।[TECHTARANGA-POST:7797]এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আওয়ামি লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে তারা মিছিল-সভা করতে পারছে না, কার্যালয় কার্যত বন্ধ, এমনকি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং প্রচার কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে এতদিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে, তা স্পষ্ট ছিল না। এখন সেই ফাঁক পূরণ করতেই শাস্তির বিধান যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে প্রান্তিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, আওয়ামি লীগের তরফে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না এলেও দলের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন—এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক দুই পথেই লড়াই চালানো হবে।পরিস্থিতি এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই আইনগত প্রক্রিয়া, নাকি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল?বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা স্পষ্ট হবে আগামী দিনে।[TECHTARANGA-POST:7772]
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার