বাতিল তৃণমূলের লিস্ট! ৮২ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ভাতা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বেলাগাম অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং লাগামহীন রাজস্ব তছরুপের কারণেই বাংলা কার্যত দেউলিয়া রাজ্যে পরিণত হয়েছিল—নবান্ন সভাঘরের হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে ঠিক এই ভাষাতেই পূর্বতন জমানাকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপুরি চাঙ্গা হতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগবে বলে অকপটে জানিয়েও, সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আগস্ট মাস থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা একলাফে ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। সোমবার রাজ্যের মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বর্ধিত টাকা সরাসরি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, যার জেরে রাজ্য কোষাগার থেকে বছরে ব্যয় হতে চলেছে বিপুল অঙ্কের ১৪,৭৭১ কোটি টাকা।অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই পূর্বতন সরকারের আমলে পড়ে থাকা সমস্ত ‘ওয়েটিং লিস্ট’ এক লহমায় পুরোপুরি বাতিলের চরম নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি সুবিধা যাতে শুধু যোগ্য মানুষের হাতে পৌঁছায় এবং কাটমানি কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়, তার জন্য একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর তথ্যও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক পুরুষের নামে বছরের পর বছর বিধবা ভাতা হাতানোর পর্দাফাঁস করে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, বয়স বাড়িয়ে বা জাল নথি দিয়ে ভাতা চুরির দিন এবার শেষ। ইতিপূর্বেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে ৫০ হাজার এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর থেকে প্রায় ৫ লক্ষ ভুয়ো নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এই সাফাই অভিযানের ফলেই শহরের সেই ফাঁকা আসনে নতুন ৫০ হাজার প্রকৃত বয়স্ক মানুষকে নতুন করে ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পুরনো অস্বচ্ছ তালিকা খারিজ করে এবার থেকে ‘জনকল্যাণ শিবির’ এবং ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচির মাধ্যমে জমা পড়া আবেদনগুলি সরেজমিনে কঠোর পরীক্ষার পরেই মঞ্জুর করা হবে, যার জন্য নভেম্বর বা ডিসেম্বরে পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে বিশেষ শিবির বসবে।এ দিন বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের জন্যও এক ঐতিহাসিক আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানানো হয়েছে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার দিব্যাঙ্গ নারী এখন থেকে ১,৫০০ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাতা’—অর্থাৎ প্রতি মাসে মোট ৪,৫০০ টাকা করে সরাসরি পাবেন। পাশাপাশি সমবয়সী বিধবা মহিলাদেরও ১,৫০০ টাকার প্রকল্প ছেড়ে দ্রুত বিডিও বা পুরসভার মাধ্যমে ৩,০০০ টাকার অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নাম তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনী সংকল্পপত্রে প্রতিশ্রুতি মতো একলাফে ভাতা দ্বিগুণ করতে না পারায় আর্থিক সঙ্কটের কথা তুলে ধরে কিছুটা আক্ষেপ করলেও শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে রাজ্যের আর্থিক হাল ফিরলেই ভাতা দ্বিগুণ করার দাবি পূরণ করা হবে। সঙ্গে জানিয়েছেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মতিথিতে রাজ্যজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালিত হবে, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভাতা পাঠিয়ে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে।[TECHTARANGA-POST:12366]হিডেন স্টোরিজ নিউজ