হোস্টেলের আড্ডা থেকে জীবনের জটিলতা: কেন ২৫ বছর পরও অন্যরকম অনুভূতি দেয় 'দিল চাহতা হ্যায়'?
২০০১ সালের আগস্ট মাস। পর্দায় হাজির হয়েছিল তিনটি চরিত্র— আকাশ, সমীর আর সিড। ফারহান আখতারের 'দিল চাহতা হ্যায়' শুধু একটি সিনেমা ছিল না, তা ছিল এক পুরো প্রজন্মের আবেগের নাম। সেই সময় হোস্টেল রুমের আড্ডা কিংবা কলেজের ক্লাসরুমে আমাদের ধারণা ছিল— "আমরা সবসময় একইরকম থাকব, বন্ধুত্ব কখনো বদলাবে না।" এই সিনেমা সেই কল্পনার ফ্যান্টাসি ভেঙে শুরুতেই মনে করিয়ে দিয়েছিল বাস্তবতার কথা। আজ ২৫ বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, সিনেমাটি কেবল একদল তরুণের গল্প ছিল না; এটি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বন্ধুত্বের অনিবার্য পরিবর্তনের এক খাঁটি দলিল।বলিউডের আর পাঁচটা সিনেমার মতো এই ছবি বন্ধুত্বকে চিরকাল এক জায়গায় আটকে রাখেনি। ক্যারিয়ার, ভিন্ন শহর, বিয়ে, সংসার কিংবা জীবনের নিজস্ব গতি কীভাবে অলক্ষ্যে বন্ধুদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে—তা খুব সহজভাবে তুলে ধরেছিল এই সিনেমা। আজকের সোশ্যাল মিডিয়া বা চ্যাট গ্রুপের যুগে হয়তো বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক একদম মুছে যায় না, কিন্তু হোস্টেলের রাত ২টোর সেই আনকাট আড্ডাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে যায়। 'দিল চাহতা হ্যায়' ২৫ বছর আগেই সেই শূন্যতার আগাম বার্তা দিয়ে রেখেছিল। গোয়ার সৈকত থেকে শুরু করে সিডনির রাস্তা—'দিল চাহতা হ্যায়' কেবল তিনটি তরুণের রূপান্তর দেখায়নি, দেখিয়েছে কীভাবে বয়স বাড়ার পর আবার পুরনো বন্ধুদের মুখোমুখি দাঁড়ালে সম্পর্কের ভাষা বদলে যায়। পঁচিশ বছর কেটে গেলেও তাই গোয়ার সেই তিন বন্ধুর গল্প আজও আমাদের জীবনের সাথেই মিলিয়ে যায়।