শুধু নোংরা জল নয়, পরিষ্কার জলেও জন্মায় এডিস! বর্ষায় ডেঙ্গি সংক্রমণ এড়াতে জেনে নিন আসল সত্য
বর্ষা এলেই বাড়ে ডেঙ্গির আতঙ্ক। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকায় দ্রুত বংশবিস্তার করে এডিস মশা। প্রতি বছর এই সময় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু এখনও ডেঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে একাধিক ভুল ধারণা। চিকিৎসকদের মতে, এই ভুল ধারণাগুলি ভাঙতে পারলেই অনেকটাই কমানো সম্ভব সংক্রমণের ঝুঁকি।[TECHTARANGA-POST:10503]অনেকেরই ধারণা, কম বৃষ্টি হলে ডেঙ্গির ভয়ও কমে যায়। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই উল্টো। মাঝারি বৃষ্টির পর উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ছোট ছোট জায়গায় জমে থাকা পরিষ্কার জলই এডিস মশার বংশবিস্তারের সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ। ভারী বৃষ্টিতে অনেক সময় মশার লার্ভা ধুয়ে গেলেও ফুলের টব, বালতি, এসির ট্রে, কুলার বা ছাদে জমে থাকা জল থেকেই নতুন করে মশা জন্মাতে পারে। তাই বর্ষার পুরো সময় জুড়েই সতর্ক থাকা জরুরি। [TECHTARANGA-POST:10502]আরও একটি বড় ভুল ধারণা হল, শুধু নোংরা জায়গাতেই ডেঙ্গির মশা জন্মায়। অথচ এডিস মশা সবচেয়ে বেশি জন্মায় পরিষ্কার ও স্থির জলে। তাই বাড়ির বারান্দা, পোষ্যের জলের পাত্র, ফুলের টবের নীচের ট্রে কিংবা এসির ড্রেন পাইপেও নিয়মিত নজর রাখা প্রয়োজন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই জায়গাগুলি পরিষ্কার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে কী বললেন বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং?ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল মশার কামড় এড়ানো। শিশুদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরানো, নিরাপদ মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, মশারি টাঙানো এবং জানালায় জালি লাগানোর মতো সাধারণ অভ্যাসই বড় সুরক্ষা দিতে পারে। কারণ এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গির নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। বর্ষাকালে জ্বরকে কখনও সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। উচ্চ জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, র্যাশ, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। [TECHTARANGA-POST:10464]পেঁপে পাতার রস, ছাগলের দুধ বা বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকায় ডেঙ্গি সেরে যায়— এমন দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং এসবের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেরি হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল খাবার এবং চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণই ডেঙ্গি থেকে সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সবশেষে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা - জ্বর কমলেই বিপদ কেটে যায় না।[TECHTARANGA-POST:10438] অনেক সময় ডেঙ্গির সবচেয়ে জটিল পর্যায় শুরু হয় জ্বর কমার পর। অসুস্থতার তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিনের মধ্যে যদি তীব্র পেটব্যথা, বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ত্বকে লাল দাগ বা অস্বাভাবিক তন্দ্রাভাব দেখা দেয়, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসাই ডেঙ্গি থেকে প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উপায়।