Stock Market Crash: সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ারবাজারে ধস, পুজোর মুখে মূল্যস্ফীতিতে বাজার আগুন!
মুম্বই ও নয়াদিল্লি: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই জোড়া বড় ধাক্কার মুখোমুখি দেশের অর্থনীতি। একদিকে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ভালুকের মারাত্মক আঁচড়ে মুখ থুবড়ে পড়ল শেয়ারবাজার, অন্যদিকে একই দিনে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের রিপোর্টে প্রকাশিত হলো সেপ্টেম্বর মাসের খুচরো মূল্যস্ফীতি এক লাফে বাড়ার উদ্বেগজনক তথ্য। তেলের চড়া দাম ও বন্ডের ক্রমবর্ধমান সুদের হারের জেরে লেনদেনের শুরুতেই সমস্ত লাভ খুইয়ে ধসে পড়ে সূচক। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫ ৪৮ পয়েন্ট কমে ৭১,৯২৫ পয়েন্টে ট্রেডিং বন্ধ করেছে সেনসেক্স। অন্যদিকে, ১৫৭ পয়েন্ট হারিয়ে ২২,৩৬৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে নিফটি ৫০। তবে বাজারে এই রক্তক্ষরণের দিনেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলে আরও এক বড় ধাক্কা দিয়েছে অগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে লাফিয়ে বাড়া খুচরো মূল্যস্ফীতির হার।শেয়ারবাজারে সকালের দিকে টাকার দর ডলারের সাপেক্ষে ৯৮ পয়সা বেড়ে গত ছ’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোয় সূচনাটা বেশ আশাব্যঞ্জকই ছিল। কিন্তু আরবিআই-এর রেপো রেট বাড়ানো এবং বন্ড মার্কেটে বিক্রির চাপ বাড়ায় সেই ইতিবাচক ধারা বেশিক্ষণ টেকেনি। দিনের একটা সময়ে হাজার পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায় সেনসেক্স। টেক মাহিন্দ্রা, আইটিসি, এলঅ্যান্ডটি, হিন্দালকো এবং এইচইউএল-এর মতো প্রথম সারির শেয়ারগুলি সর্বাধিক লোকসানের মুখে পড়ে। বিপরীতে ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাব, বাজাজ অটো, টাটা মোটরসের মতো কিছু স্টক এবং নিফটি মিডিয়া ও রিয়েলটি সূচক সামান্য লাভের মুখ দেখেছে।বাজারের এই ধসের দিনেই প্রকাশিত সরকারি রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় সেপ্টেম্বরে দেশের খুচরো মূল্যস্ফীতি (CPI) ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অগস্টে ছিল ৪.৮৩ শতাংশ। মন্ত্রকের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি (CFPI) এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭৪ শতাংশে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রতিটি সাধারণ পরিবারের দৈনিক বাজেটে। সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, শহরাঞ্চলের (৪.৮৮%) তুলনায় গ্রামীণ ভারতে (৬.০৮%) মূল্যবৃদ্ধির কামড় ছিল সবচেয়ে বেশি তীব্র। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ৮.০৬ শতাংশ পর্যন্ত ছুঁয়েছে।সেপ্টেম্বরে রান্নাবান্নার সবচেয়ে জরুরি উপাদান পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে বছর-ভিত্তিক হিসাবে প্রায় ১০৮.০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তা ছাড়া রসুনের মুদ্রাস্ফীতি ৫৪.৬২%, আদা ৬২.৮৫% এবং লেবুর দাম ৩৬.৪১% বেড়েছে। রুপোর গয়নার ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮৭.৮০ শতাংশ। যদিও আলু (১১.৫০%) ও টমেটোর (৮.৬২%) দাম কিছুটা কমেছে, তবু সামগ্রিক খাদ্যদ্রব্যের চড়া দরে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় আমজনতার। শেয়ারবাজারের এই পতনের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির এমন আচমকা লাফ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ফের বড়সড় দুশ্চিন্তার মেঘ জমাল।