Neha Bora AISA: 'আন্দোলন শিখিয়েছে বাংলাদেশ', সংহতি বার্তাতেই বিজেপির হাতে মহা-অস্ত্র তুলে দিলেন আইসা নেত্রী নেহা! তার জেরেই কি নয়া সংঘাত?
নয়াদিল্লি: শুক্রবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) হাই-ভোল্টেজ ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। কিন্তু তার ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে তৈরি হলো তীব্র গোলমাল ও তুমুল বিশৃঙ্খলা। মঞ্চে তখন অতিবাম ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA)-র প্রধান নেহা বোরা এবং আন্দোলনকারী প্রতিনিধি অভিজিৎ দীপকে। কথা শুরু হওয়ার আগেই উপস্থিত জনতার একাংশ সোচ্চার হয়ে চিৎকার শুরু করেন, "বন্ধ কর, দফা হো যাও!" বেগতিক দেখে নেহা উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দেন বিশৃঙ্খলাকারীদের বাইরে বের করে দিতে। পাশে বসে থাকা অভিজিৎ অবশ্য বাকিদের পরামর্শ দেন, এই চেঁচামেচিকে সম্পূর্ণ 'ইগনোর' করতে।হঠাৎ কেন এই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে নেহা বোরার একটি বিতর্কিত মন্তব্য। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের গণ-আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে নেহা বলেছিলেন, "আপনাদের কাছ থেকেই আমরা অনুপ্রেরণা পাই। বাংলাদেশে যে জেন-জি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা আমাদের পথ দেখিয়েছে।" সেই মন্তব্যের রেশ ধরেই পদ্মশিবির আসরে নেমে অভিযোগ তোলে, এই আন্দোলন কোনও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ নয়, বরং ভারতকে অস্থির করে 'রেজিম চেঞ্জ' বা সরকার ফেলে দেওয়ার বিদেশি ষড়যন্ত্র। আর নেহার মন্তব্যই তার অকাট্য প্রমাণ।রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পিনারাই বিজয়নদের মতো বিরোধী নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাহুল গান্ধীর সমর্থন পাওয়ার পর যেখানে আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে শক্ত জমি পাচ্ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ নেহা কেন হাসনাত-সারজিসদের মতো বিতর্কিত বাংলাদেশ আন্দোলনের নেতাদের টেনে আনতে গেলেন, তা নিয়ে আন্দোলনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী সমাজমাধ্যমে নেহার ওই বক্তব্য শেয়ার করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই নেহা বোরা আসলে রাহুল গান্ধীদের পোস্টার গার্ল। এদের লড়াই কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়, মূল লক্ষ্য একটাই, তখত পলট বা সরকার ফেলা। নেহা নিজে মুখেই মেনে নিচ্ছেন যে তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতেও সেই একই ঘটনা ঘটাতে চান।" ফলে শুক্রবারের কর্মসূচির আগে নেহার এই মন্তব্য আন্দোলনকারীদের অস্বস্তিতে ফেলার পাশাপাশি বিজেপির হাতে জোরালো রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, গত ১০-১৫ দিন ধরে দিল্লিতে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালালেও তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মাত্র একজন ব্যক্তির জন্য কেন সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে?" ১০ অক্টোবরের আন্দোলন স্তব্ধ করতে দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশন ও রেল পরিষেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর থেকে বাহিনী এনে দিল্লিতে মোতায়েন করার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। একই সঙ্গে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে যে সমস্ত সাংবাদিকরা আটক হয়েছেন, তাঁদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা।সব মিলিয়ে, শুক্রবারের 'লেহরা দো তেরঙ্গা' কর্মসূচির আগে বাংলাদেশের ছায়া এবং বিজেপির পাল্টা জবাবে রাজধানী দিল্লির রাজপথের রাজনীতি এখন উত্তেজনার চরম শিখরে।