Nana Patekar Kargil War: পর্দার বাইরেও এক জীবন, কারগিল যুদ্ধে সীমান্ত পাহারা দিয়েছিলেন নানা!
নয়াদিল্লি: শুধু সিনেমার পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না তাঁর বীরত্ব। সেখানে আলো, ক্যামেরা, অ্যাকশনের বাইরেও নিজের এক স্বতন্ত্র জীবন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। যে জীবনের একটি অন্যতম উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় জুড়ে ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। রূপোলি পর্দার নায়ক থেকে কারগিল যুদ্ধের প্রকৃত সেনানি, নানা পাটেকরের জীবন আখ্যান যেন রূপকথাকেও হার মানায়। বৃহস্পতিবার প্রবীণ অভিনেতার প্রয়াণে যখন বিনোদন জগৎ থেকে রাজনৈতিক মহল শোকস্তব্ধ, তখন তাঁর শিল্পীসত্তার পাশাপাশি বারবার ফিরে আসছে সেনার পোশাকে পরা সেই অদম্য নানার স্মৃতি।ঘটনা ১৯৯১ সালের। 'প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাট্যাক' ছবির পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয় করছিলেন নানা। কমাণ্ডোর চরিত্রে অভিনয়ে কোনওরকম মেকি কৃত্রিমতা রাখতে চাননি তিনি। অভিনয় নিখুঁত করতে মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির অধীনে টানা তিন বছর কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এই কঠোর শৃঙ্খলা ও সামরিক জীবন তাঁকে সেনাবাহিনীর প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী করে তোলে। নব্বইয়ের দশকের শেষলগ্নে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন এই তারকা।এরপরেই আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত তখন বারুদের গন্ধে উত্তাল। প্রিয় দেশকে শত্রুমুক্ত করতে নিজেকে আর ঘরের চারদেওয়ালে আটকে রাখতে পারেননি নানা পাটেকর। তৎকালীন সেনা আধিকারিকদের কাছে সীমান্ত যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা জানান, একমাত্র প্রতিরক্ষামন্ত্রীই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কাল বিলম্ব না করে সোজা তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে দরবার করেন নানা। নিজের শুটিং দক্ষতা ও পদক জয়ের কথা জানিয়ে আর্জি জানান, তাঁকে যেন সীমান্ত পাঠায় কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিলতেই অভিনেতা জীবনের মধ্যগগনে থাকা নানা পাটেকর সিনেমার সমস্ত শুটিং স্থগিত রেখে চলে যান সীমান্ত এলাকায়।সেনাবাহিনীর ‘কুইক রিয়্যাকশন টিম’ (QRT)-এর অংশ হিসেবে টানা ৬০ দিন শ্রীনগর, দ্রাস, কারগিল ও লেহ-র তীব্র প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেনা জওয়ানদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন তিনি। খাড়া পাহাড়ি চড়াই, কনকনে ঠান্ডা আর শত্রুর বোমার গোলার সামনে সতীর্থ জওয়ানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নানা। সীমান্ত থেকে যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন তাঁর ওজন ৭৬ কেজি থেকে কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৫৬ কেজিতে!নানা পাটেকরের এই অসামান্য দেশপ্রেম ও সাহসিকতাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বলিউড সতীর্থরা। সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার লিখেছেন, “সেই কণ্ঠস্বর, অভিনয় ক্ষমতার তীব্রতা আর অকৃত্রিম সততা— নানা জি এক্কেবারে নিজের মতো ছিলেন।” আর এক অভিনেতা রিতেশ দেশমুখের কথায়, “পর্দায় যেমনই হোক, পর্দার বাইরেও তিনি ছিলেন একজন আসল নায়ক। সমাজের জন্য নিঃশব্দে কাজ করে গিয়েছেন।”সিনেমার মেকি চাকচিক্য সরিয়ে রেখে যিনি দেশের সংকটে নিজের জীবন বাজি রেখে সীমান্ত পাহারা দিতে পেরেছিলেন, মৃত্যুর পর সেই সেনানি নানা পাটেকরই আজ দেশবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে রইলেন।